দিল্লির যন্তর মন্তরে মাসব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভের কাছে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে হলো মোদি সরকারকে। নিট কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের পর এক বিশেষ বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের স্বার্থ রক্ষায় শুরু থেকেই তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। কোনো অশুভ শক্তি যাতে এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই প্রস্থান বেছে নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্রের পূর্ণাঙ্গ বয়ান নিচে বাংলায় দেওয়া হলো:
আমার তরুণ বন্ধুরা,
গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তিপ্রস্তর।
আমি এ দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নৈতিক অঙ্গীকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশকে সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে, ৩ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষায় কিছু অনিয়মের বিষয় সামনে এসেছে।
বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ভারত সরকার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দিয়েছে, পরীক্ষা বাতিল করেছে এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। এছাড়া আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সিবিটি (কম্পিউটার-বেজড টেস্ট) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পুরো সময় জুড়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য নির্বিঘ্নে পরীক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা 'হোল-অফ-গভর্নমেন্ট' (পুরো সরকার) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছি; যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই আমি এর পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করেছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমি সংকল্পবদ্ধ ছিলাম যে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা যেন ‘পরীক্ষা মাফিয়া’দের দ্বারা নষ্ট না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন অন্যায়ের শিকার না হয়।
১৬ জুলাই ঘোষিত নিট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করেছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই সময়েও দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
আমাদের গণতন্ত্রের শক্তির ওপর আমার অবিচল আস্থা রয়েছে এবং আমি যুবসমাজের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে সবসময় সম্মান করি। তারা কেবল ভারতের ভবিষ্যৎ নয়; তারা নতুন ও উন্নত ভারতের পথপ্রদর্শক ও নির্মাতা।
গত ১০ দিনের ঘটনায় আমি মর্মাহত। এটি আমার ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয়। ভারতের যুবশক্তিই এই জাতির প্রকৃত শক্তি। দেশের তরুণ সমাজ যেন বিভ্রান্তির জালে আটকে না পড়ে, সেটাই আমার লক্ষ্য।
যন্তর মন্তরসহ সারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে–যাতে কোনো দেশবিরোধী শক্তি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য বজায় থাকে এবং কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না পড়ে ও তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে–সেই লক্ষ্যেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, আস্থা ও নিরন্তর সমর্থনের জন্য আমি তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়া মন্ত্রিসভার সকল সহকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
দেশের সেবা করা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; আমি সবসময় এই কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখব। প্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে আগামী দিনেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি সবর্দা কাজ করে যাব।
ইতি,
ধর্মেন্দ্র প্রধান
\ ন

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
দিল্লির যন্তর মন্তরে মাসব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভের কাছে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে হলো মোদি সরকারকে। নিট কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের পর এক বিশেষ বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের স্বার্থ রক্ষায় শুরু থেকেই তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। কোনো অশুভ শক্তি যাতে এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই প্রস্থান বেছে নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্রের পূর্ণাঙ্গ বয়ান নিচে বাংলায় দেওয়া হলো:
আমার তরুণ বন্ধুরা,
গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তিপ্রস্তর।
আমি এ দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নৈতিক অঙ্গীকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশকে সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে, ৩ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষায় কিছু অনিয়মের বিষয় সামনে এসেছে।
বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ভারত সরকার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দিয়েছে, পরীক্ষা বাতিল করেছে এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। এছাড়া আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা সিবিটি (কম্পিউটার-বেজড টেস্ট) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পুরো সময় জুড়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য নির্বিঘ্নে পরীক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা 'হোল-অফ-গভর্নমেন্ট' (পুরো সরকার) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছি; যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই আমি এর পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করেছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমি সংকল্পবদ্ধ ছিলাম যে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা যেন ‘পরীক্ষা মাফিয়া’দের দ্বারা নষ্ট না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন অন্যায়ের শিকার না হয়।
১৬ জুলাই ঘোষিত নিট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করেছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই সময়েও দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
আমাদের গণতন্ত্রের শক্তির ওপর আমার অবিচল আস্থা রয়েছে এবং আমি যুবসমাজের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে সবসময় সম্মান করি। তারা কেবল ভারতের ভবিষ্যৎ নয়; তারা নতুন ও উন্নত ভারতের পথপ্রদর্শক ও নির্মাতা।
গত ১০ দিনের ঘটনায় আমি মর্মাহত। এটি আমার ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয়। ভারতের যুবশক্তিই এই জাতির প্রকৃত শক্তি। দেশের তরুণ সমাজ যেন বিভ্রান্তির জালে আটকে না পড়ে, সেটাই আমার লক্ষ্য।
যন্তর মন্তরসহ সারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে–যাতে কোনো দেশবিরোধী শক্তি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য বজায় থাকে এবং কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না পড়ে ও তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে–সেই লক্ষ্যেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, আস্থা ও নিরন্তর সমর্থনের জন্য আমি তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়া মন্ত্রিসভার সকল সহকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
দেশের সেবা করা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; আমি সবসময় এই কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখব। প্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে আগামী দিনেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি সবর্দা কাজ করে যাব।
ইতি,
ধর্মেন্দ্র প্রধান
\ ন

আপনার মতামত লিখুন