নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো দলীয় প্রতিনিধিত্বের জায়গা নয় উল্লেখ করে সেখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ‘গভীর কূটকৌশলের’ অংশ হিসেবে সেখানে দলীয় ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা এমন এক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিলাম, যেখানে সরকারি চাকরি হবে দলমতের ঊর্ধ্বে যোগ্যতার ভিত্তিতে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের সময় সরকারি ও বিরোধী দল—সবার অংশগ্রহণ থাকবে এবং একটি নিরপেক্ষ বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, পিএসসি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে না।’
সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত তিন দিনে বাংলাদেশের ১২টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও বিএসএসবিসিসহ বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতাকর্মী।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সম্প্রতি ইসিতে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি সক্রিয়ভাবে একটি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের জায়গা, এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে না। সামনের নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশবাসী কোনো ধরনের বৈষম্য বা দলীয়করণ মেনে নেবে না। আমাদের এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে হবে যেখানে গণতন্ত্র, সুবিচার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।’
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহত প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম ও সাব্বির হোসেনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে একটি পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সকালে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন