জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থেকে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সদর থানার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের সময়েও আমাদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে। শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের চোখ কেড়ে নিয়েছিলেন, আর এই সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় একজন কিশোরের চোখ কেড়ে নিল।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যিনি স্থানীয় এমপি, তিনি নিজেই সন্ত্রাসী পালছেন। তার অনুসারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের ওপর হামলা করেছে। পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে বাধা দিলেও আমাদের অনড় অবস্থানের কারণে পরে অভিযোগ গ্রহণ করেছে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, গত ১৬ বছর যখন বালুর ট্রাক দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন আটকে রাখা হয়েছিল, তখন বর্তমান স্থানীয় নেতাদের সাহস কোথায় ছিল? এখন তারাই বিরোধীদলের কর্মসূচিতে বাধা দিতে ট্রাক বসিয়েছেন।
নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দলের কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা হবে, কিন্তু বিচার করার এখতিয়ার ছাত্রদল বা বিএনপির সন্ত্রাসীদের নেই।’ তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি (চুপ্পু) প্রসঙ্গেও সরকারের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন।
হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতা জি কে গউছের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি যে সন্ত্রাসী পোষেন, তা আজ সারা পৃথিবী জেনেছে। সরকার কীভাবে বিরোধীদলের মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত করছে, এই হামলাই তার প্রমাণ।’
পুলিশকে নিরপেক্ষতা প্রমাণের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দেন, আজ রাতের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ধরে নেওয়া হবে দেশ আবারও মাফিয়া ও স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের সময় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন