সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা সুলতানা হত্যাকাণ্ড এবং ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন সুমাইয়া খাতুনকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার প্রধান সাক্ষীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের অমিল থাকায় বিষয়টি এখন অধিকতর তদন্তের দাবি রাখছে।
নিহত ফারজানা হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী হামিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত ২০ জুলাই ফারজানা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে থানায় জিডি করেন। সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সুমাইয়া খাতুনের তালাবদ্ধ ঘরে প্রবেশ করলে একটি ওয়ারড্রবের ভেতরে ফারজানার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি আরও দাবি করেন, মরদেহ দেখে তিনি জ্ঞান হারান এবং পরে জানতে পারেন উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়েছে।
তবে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হামিদুল মোড়ল নামে কাউকে আমি চিনি না। পুলিশ তার থেকে কোনো বক্তব্য নেয়নি। সুমাইয়ার ঘরের তালা স্থানীয়রা ভেঙেছিলেন, পুলিশ চাবি নেয়নি। ওই সাক্ষী সেখানে অজ্ঞান হয়েছিলেন কি না, তাও জানা নেই।’
এদিকে, পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সুমাইয়া খাতুনকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে তার বাবা আব্দুল লতিফ শেখ আটজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেছেন। আদালত এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ওসিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুমাইয়ার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, সাক্ষী হামিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল।
সাতক্ষীরা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। প্রতিটি হত্যার বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’
পুলিশ জানিয়েছে, ফারজানা হত্যা ও সুমাইয়ার মৃত্যু—উভয় ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা সুলতানা হত্যাকাণ্ড এবং ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন সুমাইয়া খাতুনকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার প্রধান সাক্ষীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের অমিল থাকায় বিষয়টি এখন অধিকতর তদন্তের দাবি রাখছে।
নিহত ফারজানা হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী হামিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত ২০ জুলাই ফারজানা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে থানায় জিডি করেন। সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সুমাইয়া খাতুনের তালাবদ্ধ ঘরে প্রবেশ করলে একটি ওয়ারড্রবের ভেতরে ফারজানার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি আরও দাবি করেন, মরদেহ দেখে তিনি জ্ঞান হারান এবং পরে জানতে পারেন উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়েছে।
তবে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হামিদুল মোড়ল নামে কাউকে আমি চিনি না। পুলিশ তার থেকে কোনো বক্তব্য নেয়নি। সুমাইয়ার ঘরের তালা স্থানীয়রা ভেঙেছিলেন, পুলিশ চাবি নেয়নি। ওই সাক্ষী সেখানে অজ্ঞান হয়েছিলেন কি না, তাও জানা নেই।’
এদিকে, পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সুমাইয়া খাতুনকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে তার বাবা আব্দুল লতিফ শেখ আটজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেছেন। আদালত এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ওসিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুমাইয়ার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, সাক্ষী হামিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল।
সাতক্ষীরা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। প্রতিটি হত্যার বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’
পুলিশ জানিয়েছে, ফারজানা হত্যা ও সুমাইয়ার মৃত্যু—উভয় ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন