সংবাদ

প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ও স্ক্যামে ‘জিরো টলারেন্স’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ও স্ক্যামে ‘জিরো টলারেন্স’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংবাদ

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও সাইবার স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বর্তমান সরকার এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দফতর (UNODC) এবং জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচারের ধরন এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল। অপরাধী চক্রগুলো ডিজিটাল মাধ্যম ও ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের ফাঁদে ফেলছে। উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাদের বিদেশে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করে রাখা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে।’

এই হুমকি মোকাবিলায় কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সচেতন সমাজকে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতি রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনে অনলাইন স্ক্যাম ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে একটি নতুন ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও আইনি সহায়তার জন্য ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (NRM)’ জোরদার করা হচ্ছে। তথ্যভিত্তিক কেস ট্র্যাকিংয়ের জন্য একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইন সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডে। সংলাপে সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ও স্ক্যামে ‘জিরো টলারেন্স’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও সাইবার স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বর্তমান সরকার এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দফতর (UNODC) এবং জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচারের ধরন এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল। অপরাধী চক্রগুলো ডিজিটাল মাধ্যম ও ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের ফাঁদে ফেলছে। উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাদের বিদেশে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করে রাখা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে।’

এই হুমকি মোকাবিলায় কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সচেতন সমাজকে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতি রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনে অনলাইন স্ক্যাম ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে একটি নতুন ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও আইনি সহায়তার জন্য ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (NRM)’ জোরদার করা হচ্ছে। তথ্যভিত্তিক কেস ট্র্যাকিংয়ের জন্য একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইন সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডে। সংলাপে সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত