চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা হল্ট রেলস্টেশনে তিন বছরের শিশুসন্তানকে প্ল্যাটফর্মে রেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম নিলুফা খাতুন (২৭)। তিনি সদর উপজেলার ডিহিকৃষ্ণপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী। প্ল্যাটফর্মে রেখে যাওয়া শিশুটির নাম লামিয়া ইসলাম আয়াত।
জিআরপি পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাতে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি দর্শনা হল্ট স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় নিলুফা খাতুন আকস্মিকভাবে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে ঝাঁপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ক্লিনিক থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে নিলুফা শিশুসন্তান লামিয়াকে নিয়ে একই উপজেলার উকতো গ্রামে বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গভীর রাতে মোবাইলে তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, তাঁর স্ত্রী গত কয়েক মাস ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
দর্শনা হল্ট রেলওয়ে জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অক্ষত শিশুটিকে রাতেই নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আপনার মতামত লিখুন