সংবাদ

ঘরেই গড়ে তোলা নীরব অক্সিজেনের কারখানা


বিশাখা চৌধুরী
বিশাখা চৌধুরী
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

ঘরেই গড়ে তোলা নীরব অক্সিজেনের কারখানা
ছবি : সংগৃহীত

ইট-পাথরের এই নগরীতে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে ক্লান্ত চোখ খুঁজে বেড়ায় একচিলতে প্রশান্তি। সেই প্রশান্তির ঠিকানা যেন খুঁজে পেয়েছে আগারগাঁওয়ের জাতীয় বৃক্ষমেলায়। হাজারো ফুল-ফলের সমারোহে সেজেছে বৃক্ষমেলার প্রাঙ্গণ।

ঘরের অক্সিজেন

কিন্তু সবুজের এই রাজ্যের মাঝে যেন এক অন্য জগতে পা রাখলাম, যখন চোখ পড়ল ‘রিকলগ্রিন’-এর ১৫ নম্বর প্যাভিলিয়নে। কংক্রিটের এ শহরে যেন হঠাৎ চোখের সামনে সবুজের এক অজানায় ভ্রমণ।

প্যাভিলিয়নটির দিকে পা বাড়ালেই মনে হয় ধূসর রাজধানী ছেড়ে কোথায় যেন দূর কোনো অরণ্যে চলে এসেছি। পরিত্যক্ত বিদেশি বক্সের বোর্ডে তৈরি স্টলটির সাজসজ্জাই যেন অন্যরকম। সেখানে থরে থরে সাজানো দুষ্প্রাপ্য ইনডোর প্ল্যান্ট, মনসটেরা, ক্যাকটাসের রুক্ষ সৌন্দর্য, আবার কোথাও শোভা পাচ্ছে ব্লু পাইন বাঁশের উজ্জ্বল নীলচে আভা। এ এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ। ফুলের চেয়েও পাতার সৌন্দর্যই যেন এখানে বেশি করে কথা বলে।

বনসাই

শুধু গাছ কেন- এখানে প্রতিটি গাছ যেন এক টুকরো শিল্প। এসি-রুমের অন্ধকারেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রিমিয়াম প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে কম আলোতেও টিকে থাকা বিশেষ প্রজাতির গাছ। সবকিছুই যেন আমাদের যান্ত্রিক এই জীবনকে একটু সবুজ করে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ। 

আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এখানে রয়েছে ‘প্ল্যান্ট গ্রো লাইট’- যার সাহায্যে বাসার যেকোনো অন্ধকার কোণায়ও গাছ অনায়াসে সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে। এ যেন ঘরের ভেতরই সূর্যালোকের ব্যবস্থা!

রাশেদুল ইসলামের রিকলগ্রিন

তবে রিকলগ্রিন শুধু গাছ বিক্রির দোকান নয়, এটি যেন নগরবাসীর মানসিক প্রশান্তির এক ঠিকানা। উদ্যোক্তা পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম জানালেন, ‘আমরা শুধু গাছ বিক্রি করি না, মানুষের ঘরের ভেতর এক টুকরো প্রকৃতি আর মানসিক প্রশান্তি পৌঁছে দিতে চাই।’ 

আইটি পেশা ছেড়ে গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে হাতেখড়ি, এখন রাজশাহীতে ২২ বিঘা জমি জুড়ে তার বাগান, মিরপুরে বিশাল সংগ্রহ, সিরাজগঞ্জে ছাদবাগান। শুধু দেশি গাছ নয়, থাইল্যান্ড, চীন, ফিলিপাইন থেকে আনা দুষ্প্রাপ্য প্রজাতি তো আছেই।

সবুজের সমারোহ

যারা সময়ের অভাবে মিরপুরে আসতে পারেন না, তাদের জন্যও ভেবেছে রিকলগ্রিন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘরে বসে অর্ডার করলেই ঠিক ড্যামেজ-প্রুফ প্যাকেজিং-এ চলে আসবে মনপছন্দ গাছ। 

রাশেদুল মনে করেন, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে, চোখের ক্লান্তি মেটাতে এবং ঘরের ভেতর অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে একটি জীবন্ত গাছ রাখার বিকল্প নেই।

পানি আর ফুল

শুধু কি তাই? মেলায় আসা তানজিলা রহমানের কথায়, ‘ঘর সাজানোর জন্য ভালো মানের গাছ ও আধুনিক ডিজাইনের টব একসঙ্গে পাওয়া কঠিন। এখানে তা পেয়ে খুব ভালো লাগলো, সঙ্গে পেলাম গাছের যত্নেরও কার্যকরী পরামর্শ।’

‘সবুজায়ন হোক সবার ঘরে’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রিকলগ্রিন এখনও হাঁটছে। কংক্রিটের এ শহরে মানুষ যদি বাড়ির বারান্দায়, ডেস্কের এক কোণায়, বসার ঘরের ছাদে বা অফিসের জানালায় একটু সবুজ রাখে, তাহলে এই যান্ত্রিক জীবনে অক্সিজেনের একটি বড় যোগান তৈরি হবে।

ঘরে অক্সিজেনের উৎস

আগারগাঁওয়ের বৃক্ষমেলায় ঘুরে দেখতে পারেন ‘রিকলগ্রিন’-এর সেই সবুজ জগৎ, আর ঘরে নিয়ে যেতে পারেন নগর জীবনের ক্লান্তি ঘুচানোর এক অনন্য উপায়।

গেল ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আগারগাঁওয়ের বৃক্ষমেলা চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। খোলা থাকছে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলায় কোনো প্রবেশমূল্য নেই, সময় বের করে ঘুরে আসুন আপনিও।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


ঘরেই গড়ে তোলা নীরব অক্সিজেনের কারখানা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইট-পাথরের এই নগরীতে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে ক্লান্ত চোখ খুঁজে বেড়ায় একচিলতে প্রশান্তি। সেই প্রশান্তির ঠিকানা যেন খুঁজে পেয়েছে আগারগাঁওয়ের জাতীয় বৃক্ষমেলায়। হাজারো ফুল-ফলের সমারোহে সেজেছে বৃক্ষমেলার প্রাঙ্গণ।

ঘরের অক্সিজেন

কিন্তু সবুজের এই রাজ্যের মাঝে যেন এক অন্য জগতে পা রাখলাম, যখন চোখ পড়ল ‘রিকলগ্রিন’-এর ১৫ নম্বর প্যাভিলিয়নে। কংক্রিটের এ শহরে যেন হঠাৎ চোখের সামনে সবুজের এক অজানায় ভ্রমণ।

প্যাভিলিয়নটির দিকে পা বাড়ালেই মনে হয় ধূসর রাজধানী ছেড়ে কোথায় যেন দূর কোনো অরণ্যে চলে এসেছি। পরিত্যক্ত বিদেশি বক্সের বোর্ডে তৈরি স্টলটির সাজসজ্জাই যেন অন্যরকম। সেখানে থরে থরে সাজানো দুষ্প্রাপ্য ইনডোর প্ল্যান্ট, মনসটেরা, ক্যাকটাসের রুক্ষ সৌন্দর্য, আবার কোথাও শোভা পাচ্ছে ব্লু পাইন বাঁশের উজ্জ্বল নীলচে আভা। এ এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ। ফুলের চেয়েও পাতার সৌন্দর্যই যেন এখানে বেশি করে কথা বলে।

বনসাই

শুধু গাছ কেন- এখানে প্রতিটি গাছ যেন এক টুকরো শিল্প। এসি-রুমের অন্ধকারেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রিমিয়াম প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে কম আলোতেও টিকে থাকা বিশেষ প্রজাতির গাছ। সবকিছুই যেন আমাদের যান্ত্রিক এই জীবনকে একটু সবুজ করে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ। 

আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এখানে রয়েছে ‘প্ল্যান্ট গ্রো লাইট’- যার সাহায্যে বাসার যেকোনো অন্ধকার কোণায়ও গাছ অনায়াসে সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে। এ যেন ঘরের ভেতরই সূর্যালোকের ব্যবস্থা!

রাশেদুল ইসলামের রিকলগ্রিন

তবে রিকলগ্রিন শুধু গাছ বিক্রির দোকান নয়, এটি যেন নগরবাসীর মানসিক প্রশান্তির এক ঠিকানা। উদ্যোক্তা পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম জানালেন, ‘আমরা শুধু গাছ বিক্রি করি না, মানুষের ঘরের ভেতর এক টুকরো প্রকৃতি আর মানসিক প্রশান্তি পৌঁছে দিতে চাই।’ 

আইটি পেশা ছেড়ে গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে হাতেখড়ি, এখন রাজশাহীতে ২২ বিঘা জমি জুড়ে তার বাগান, মিরপুরে বিশাল সংগ্রহ, সিরাজগঞ্জে ছাদবাগান। শুধু দেশি গাছ নয়, থাইল্যান্ড, চীন, ফিলিপাইন থেকে আনা দুষ্প্রাপ্য প্রজাতি তো আছেই।

সবুজের সমারোহ

যারা সময়ের অভাবে মিরপুরে আসতে পারেন না, তাদের জন্যও ভেবেছে রিকলগ্রিন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘরে বসে অর্ডার করলেই ঠিক ড্যামেজ-প্রুফ প্যাকেজিং-এ চলে আসবে মনপছন্দ গাছ। 

রাশেদুল মনে করেন, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে, চোখের ক্লান্তি মেটাতে এবং ঘরের ভেতর অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে একটি জীবন্ত গাছ রাখার বিকল্প নেই।

পানি আর ফুল

শুধু কি তাই? মেলায় আসা তানজিলা রহমানের কথায়, ‘ঘর সাজানোর জন্য ভালো মানের গাছ ও আধুনিক ডিজাইনের টব একসঙ্গে পাওয়া কঠিন। এখানে তা পেয়ে খুব ভালো লাগলো, সঙ্গে পেলাম গাছের যত্নেরও কার্যকরী পরামর্শ।’

‘সবুজায়ন হোক সবার ঘরে’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রিকলগ্রিন এখনও হাঁটছে। কংক্রিটের এ শহরে মানুষ যদি বাড়ির বারান্দায়, ডেস্কের এক কোণায়, বসার ঘরের ছাদে বা অফিসের জানালায় একটু সবুজ রাখে, তাহলে এই যান্ত্রিক জীবনে অক্সিজেনের একটি বড় যোগান তৈরি হবে।

ঘরে অক্সিজেনের উৎস

আগারগাঁওয়ের বৃক্ষমেলায় ঘুরে দেখতে পারেন ‘রিকলগ্রিন’-এর সেই সবুজ জগৎ, আর ঘরে নিয়ে যেতে পারেন নগর জীবনের ক্লান্তি ঘুচানোর এক অনন্য উপায়।

গেল ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আগারগাঁওয়ের বৃক্ষমেলা চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। খোলা থাকছে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলায় কোনো প্রবেশমূল্য নেই, সময় বের করে ঘুরে আসুন আপনিও।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত