আজ ২২ শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫ তম মহাপ্রয়াণ দিবস। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত কাছারি বাড়িতে প্রতি বছর ২৫ শে বৈশাখ সরকারিভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মোৎসব উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হতো। তবে এবারই দেখা গেল ব্যতিক্রম।কবির মহাপ্রয়াণ দিবসে সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি ছিল না।রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ঘিরে ছিল সুনসান নীরবতা।
সিরাজগঞ্জ রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে সরকারি কোনো প্রকার কর্মসূচি ছাড়াই নীরবে নিভৃতে চলে গেলো বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবস। এ ব্যাপারে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির কাস্টোডিয়ান শাওলী তালুকদার জানান, কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে সাংস্কৃতিক মন্ত্রাণালয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের কোনো চিঠি বা আদেশ না থাকায় সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি হয়নি।
তবে শাওলী তালুকদার জানান, রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির পক্ষ থেকে সকালে বিসিক বাসট্যান্ডে রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। অডিটোরিয়ামের সামনে ছোট পরিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নিজস্ব উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি কবিগুরুর সৃষ্টিশীল জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। অথচ দুঃখজনক হলেও এই কাছারি বাড়িতেই কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে কোনো কর্মসূচি নেই।
শাহজাদপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী শওকত বলেন, আমরা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাছারি বাড়িতে তার প্রয়াণ দিবসে সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না।
কাজী শওকত আরো জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নিজস্ব উদ্যোগে সন্ধ্যায় স্থানীয় ইব্রাহিম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এদিকে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করেছে। এ উপলক্ষে সকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এ স্থাপিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হলসমূহের প্রভোস্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুল উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান বলেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আমাদের মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্র-দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
আজ ২২ শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫ তম মহাপ্রয়াণ দিবস। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত কাছারি বাড়িতে প্রতি বছর ২৫ শে বৈশাখ সরকারিভাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মোৎসব উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হতো। তবে এবারই দেখা গেল ব্যতিক্রম।কবির মহাপ্রয়াণ দিবসে সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি ছিল না।রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ঘিরে ছিল সুনসান নীরবতা।
সিরাজগঞ্জ রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে সরকারি কোনো প্রকার কর্মসূচি ছাড়াই নীরবে নিভৃতে চলে গেলো বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবস। এ ব্যাপারে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির কাস্টোডিয়ান শাওলী তালুকদার জানান, কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে সাংস্কৃতিক মন্ত্রাণালয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের কোনো চিঠি বা আদেশ না থাকায় সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি হয়নি।
তবে শাওলী তালুকদার জানান, রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির পক্ষ থেকে সকালে বিসিক বাসট্যান্ডে রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। অডিটোরিয়ামের সামনে ছোট পরিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নিজস্ব উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি কবিগুরুর সৃষ্টিশীল জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। অথচ দুঃখজনক হলেও এই কাছারি বাড়িতেই কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে কোনো কর্মসূচি নেই।
শাহজাদপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী শওকত বলেন, আমরা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাছারি বাড়িতে তার প্রয়াণ দিবসে সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না।
কাজী শওকত আরো জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নিজস্ব উদ্যোগে সন্ধ্যায় স্থানীয় ইব্রাহিম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এদিকে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করেছে। এ উপলক্ষে সকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এ স্থাপিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হলসমূহের প্রভোস্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুল উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান বলেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আমাদের মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্র-দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন