সংবাদ

দেড় কোটি পরিবার পাবে কার্ড, উদ্বোধন ১৬ আগস্ট


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

দেড় কোটি পরিবার পাবে কার্ড, উদ্বোধন ১৬ আগস্ট
ছবি : সংগৃহীত

পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিটি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই তালিকায় নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ ও সংশোধন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘কেউ দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন, আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। তাই এটি হবে একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যাতে প্রকৃত দরিদ্ররা কোনোভাবেই তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারে এবং যোগ্য ব্যক্তি যেন বাদ না পড়েন, সে জন্য তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়ের কমিটির সভাপতি থাকবেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত এই কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন।

মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। এটি পুরোপুরি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর হাতে টাকা গেলে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ যেমন, হাঁস-মুরগি পালন বা সেলাই কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বাড়বে।’

১৬ আগস্ট উদ্বোধনের পর অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ৫৬টি এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ত্রুটির হার ছিল ৩ শতাংশের কম। যশোর ও নেত্রকোনায় কিছু কারিগরি সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই বৃহৎ কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণা পরিচালনা করা হবে। এই গবেষণার মাধ্যমে দেখা হবে যে এই কার্ড দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কর্মসূচির যাবতীয় নীতিমালা ও তথ্য সবার জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


দেড় কোটি পরিবার পাবে কার্ড, উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিটি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই তালিকায় নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ ও সংশোধন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘কেউ দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন, আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। তাই এটি হবে একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যাতে প্রকৃত দরিদ্ররা কোনোভাবেই তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারে এবং যোগ্য ব্যক্তি যেন বাদ না পড়েন, সে জন্য তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়ের কমিটির সভাপতি থাকবেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত এই কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন।

মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। এটি পুরোপুরি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর হাতে টাকা গেলে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ যেমন, হাঁস-মুরগি পালন বা সেলাই কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বাড়বে।’

১৬ আগস্ট উদ্বোধনের পর অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ৫৬টি এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ত্রুটির হার ছিল ৩ শতাংশের কম। যশোর ও নেত্রকোনায় কিছু কারিগরি সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই বৃহৎ কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণা পরিচালনা করা হবে। এই গবেষণার মাধ্যমে দেখা হবে যে এই কার্ড দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কর্মসূচির যাবতীয় নীতিমালা ও তথ্য সবার জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত