চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১১টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ব্যাংকিং সুবিধা সংকুচিত হওয়া এবং ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল সংকটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্পগোষ্ঠীটি। কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে গ্রুপটি।
এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই বছরে ব্যাংকিং ফ্যাসিলিটিজ ও অ্যাকাউন্ট সীমিতকরণ এবং নতুন এলসি খুলতে না দেওয়ার ফলে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল কারখানাগুলো তীব্র সংকটে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
বিবৃতিতে গ্রুপটি দাবি করেছে, ১৯৮৫ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে এস আলম গ্রুপ দেশের অর্থনীতিতে একটি নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে আসছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যাংকিং, বিমা, চিনি, ভোজ্যতেল, ইস্পাত, সিমেন্ট, পরিবহন ও আবাসনসহ দেশের মৌলিক শিল্প খাতগুলোতে তাদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। তাদের দাবি, জন্মলগ্ন থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে তাদের কোনো খেলাপি ঋণ বা বকেয়া ছিল না।
কারখানা বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত গভীর পরিতাপের সাথে জানাচ্ছি যে, বিগত দুই বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত, ব্যাংকিং সুবিধা সীমিতকরণ এবং এলসি খুলতে না দেওয়ার কারণে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। উৎপাদন না থাকা সত্ত্বেও আমরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করে আসছি এই আশায় যে, সরকার ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি সুরাহা করবে।’
চট্টগ্রামের এই ১১টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় শত শত শ্রমিকের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করে এস আলম গ্রুপ। বিবৃতিতে শিল্প ও কর্মসংস্থানকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, ‘বিদ্যমান বাধাগুলো অপসারিত হলে এবং ব্যাংকিং সুযোগ-সুবিধা পুনরায় চালু হলে আমরা দ্রুততম সময়ে সব কারখানার চাকা সচল করতে পারব।’
গ্রুপটি বর্তমান ‘জনবান্ধব সরকারের’ কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দেশবাসী ও সরকারের সহযোগিতায় তারা আবার নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষস্থানীয় এই শিল্পগোষ্ঠীটি গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং খাতে প্রভাব বিস্তার ও ঋণ সংক্রান্ত নানা কারণে আলোচনায় ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গ্রুপটির ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপিত হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/রুপা খাতুন
আপনার মতামত লিখুন