সংবাদ

বাংলা কিউআরে প্রথম মাসেই ব্যাপক সাড়া


আবুল কালাম আজাদ
আবুল কালাম আজাদ
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:০২ এএম

বাংলা কিউআরে প্রথম মাসেই ব্যাপক সাড়া
ছবি: সংগৃহীত

লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো, ছাপানো নোটের ব্যবহার কমিয়ে লেনদেনকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও দ্রুত করতে গত জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে সব ব্যাংকে এমএফএসের কোড ভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপান বাধ্যতামূলক করা হয়। যদিও ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোড ভিত্তিক লেনদেন নিস্পত্তির এ ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত  কিউআর ভিত্তিক লেনদেনে মার্চেন্ট থেকে এক শতাংশ চার্জ কাটা হয়। তবে ক্ষুদ্র মার্চেন্টের যেন এ চার্জ না লাগে সে জন্য সম্প্রতি একশ’ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী– বাংলা কিউআর চ্যানেলে গত জুলাইতে দৈনিক গড়ে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা তথা মোট এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের মাস জুনে লেনদেনের পরিমাণ ছিলো ৮৪৫ কোটি টাকা। মে মাসে যা ৪৭৯ কোটি টাকা ছিলো। এর আগে গত এপ্রিলে লেনদেন হয় ১৯৯ কোটি টাকা। এছাড়া মার্চে ২২৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২১৮ কোটি এবং জানুয়ারিতে ২১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- এখন পর্যন্ত ব্যাংক, এমএফএসসহ ৩৭টি প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআরে যুক্ত হয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টি। এক সপ্তাহ আগে গত ২৫ জুলাই যা ছিলো ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪১। এর মানে শুধু শেষ সপ্তাহে কিউআর প্রতিস্থাপন হয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৯২টি। সারা দেশে বর্তমানে মার্চেন্ট সংখ্যার শীর্ষে রয়েছে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। তবে নতুন করে কিউআর প্রতিস্থাপনে উঠে আসছে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো।

গত সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নতুন করে ৫০ হাজার ৩০৩টি মার্চেন্টে কিউআর দিয়ে শীর্ষে ছিলো। সব মিলিয়ে ব্যাংকটির মোট কিউআর দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৫৭টি। শেষ সপ্তাহে শীর্ষ দশ কিউআর প্রতিস্থাপনের তালিকার দ্বিতীয় ছিলো পূবালী ব্যাংক। ব্যাংকটি শেষ সপ্তাহে ৪৫ হাজার ৬৭৩টি কিউআর দেওয়ার পর মোট কিউআর ঠেকেছে তিন লাখ ৫৩ হাজার ৬৬১টি। কিউআর সম্প্রসারেণে সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে– নতুন কিউআর দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অনেক এগিয়ে আছে। গত সপ্তাহে কিউআর সম্প্রসারণে পর্যায়ক্রমে– জনতা ব্যাংক ১৭ হাজার ১৪৪টি, রূপালী ১৪ হাজার ৮৬, বাংলাদেশ কৃষি ১১ হাজার ৫৮৩টি, অগ্রণী ৮ হাজার ২২৮টি, সোনালী ৬ হাজার ৮২২টি, ডাচ্–বাংলা ৫ হাজার ২৬৩টি, ব্র্যাক করেছে ৪ হাজার ১৪০টি এবং টালিপে নতুন করে ৯৪৫টি কিউআর দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, এক কিউআরে সব পরিশোধের সুবিধার ফলে দোকানদার ও ভোক্তা উভয়ের সুবিধা হয়েছে। একটি দোকানে এখন আর আগের মতো একাধিক কিউআর রাখার দরকার হচ্ছে না। এ ব্যবস্থার ফলে বাংলা কিউআরে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, একজন মার্চেন্ট যে ব্যাংক বা এমএফএসের কিউআরে পরিশোধ নেবে টাকাটা ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হবে। এটা তার জন্য ‘নো কস্ট ডিপোজিট’ হিসেবে বিবেচিত। ফলে কিউআর সম্প্রসারণে এখন ব্যাংকগুলো বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। অবশ্য এমএফএসগুলোর বিষয় বিবেচনা করে মার্চেন্টের ওপর ১ শতাংশ চার্জ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা না থাকলে এ লেনদেন আরও বাড়তো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


বাংলা কিউআরে প্রথম মাসেই ব্যাপক সাড়া

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো, ছাপানো নোটের ব্যবহার কমিয়ে লেনদেনকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও দ্রুত করতে গত জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে সব ব্যাংকে এমএফএসের কোড ভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপান বাধ্যতামূলক করা হয়। যদিও ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোড ভিত্তিক লেনদেন নিস্পত্তির এ ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত  কিউআর ভিত্তিক লেনদেনে মার্চেন্ট থেকে এক শতাংশ চার্জ কাটা হয়। তবে ক্ষুদ্র মার্চেন্টের যেন এ চার্জ না লাগে সে জন্য সম্প্রতি একশ’ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী– বাংলা কিউআর চ্যানেলে গত জুলাইতে দৈনিক গড়ে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা তথা মোট এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের মাস জুনে লেনদেনের পরিমাণ ছিলো ৮৪৫ কোটি টাকা। মে মাসে যা ৪৭৯ কোটি টাকা ছিলো। এর আগে গত এপ্রিলে লেনদেন হয় ১৯৯ কোটি টাকা। এছাড়া মার্চে ২২৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২১৮ কোটি এবং জানুয়ারিতে ২১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- এখন পর্যন্ত ব্যাংক, এমএফএসসহ ৩৭টি প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআরে যুক্ত হয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টি। এক সপ্তাহ আগে গত ২৫ জুলাই যা ছিলো ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪১। এর মানে শুধু শেষ সপ্তাহে কিউআর প্রতিস্থাপন হয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৯২টি। সারা দেশে বর্তমানে মার্চেন্ট সংখ্যার শীর্ষে রয়েছে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। তবে নতুন করে কিউআর প্রতিস্থাপনে উঠে আসছে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো।

গত সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নতুন করে ৫০ হাজার ৩০৩টি মার্চেন্টে কিউআর দিয়ে শীর্ষে ছিলো। সব মিলিয়ে ব্যাংকটির মোট কিউআর দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৫৭টি। শেষ সপ্তাহে শীর্ষ দশ কিউআর প্রতিস্থাপনের তালিকার দ্বিতীয় ছিলো পূবালী ব্যাংক। ব্যাংকটি শেষ সপ্তাহে ৪৫ হাজার ৬৭৩টি কিউআর দেওয়ার পর মোট কিউআর ঠেকেছে তিন লাখ ৫৩ হাজার ৬৬১টি। কিউআর সম্প্রসারেণে সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে– নতুন কিউআর দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অনেক এগিয়ে আছে। গত সপ্তাহে কিউআর সম্প্রসারণে পর্যায়ক্রমে– জনতা ব্যাংক ১৭ হাজার ১৪৪টি, রূপালী ১৪ হাজার ৮৬, বাংলাদেশ কৃষি ১১ হাজার ৫৮৩টি, অগ্রণী ৮ হাজার ২২৮টি, সোনালী ৬ হাজার ৮২২টি, ডাচ্–বাংলা ৫ হাজার ২৬৩টি, ব্র্যাক করেছে ৪ হাজার ১৪০টি এবং টালিপে নতুন করে ৯৪৫টি কিউআর দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, এক কিউআরে সব পরিশোধের সুবিধার ফলে দোকানদার ও ভোক্তা উভয়ের সুবিধা হয়েছে। একটি দোকানে এখন আর আগের মতো একাধিক কিউআর রাখার দরকার হচ্ছে না। এ ব্যবস্থার ফলে বাংলা কিউআরে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, একজন মার্চেন্ট যে ব্যাংক বা এমএফএসের কিউআরে পরিশোধ নেবে টাকাটা ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হবে। এটা তার জন্য ‘নো কস্ট ডিপোজিট’ হিসেবে বিবেচিত। ফলে কিউআর সম্প্রসারণে এখন ব্যাংকগুলো বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। অবশ্য এমএফএসগুলোর বিষয় বিবেচনা করে মার্চেন্টের ওপর ১ শতাংশ চার্জ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা না থাকলে এ লেনদেন আরও বাড়তো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত