সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীতে দিন-রাত চলছে অবৈধ ড্রেজার ও সেভ মেশিনের তাণ্ডব। ইজারার শর্ত তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী চক্রের বালু উত্তোলনে নদীর দুই তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও রাবার ড্যামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ড্রেজারের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নদীপাড়ের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের পাশে খাসিয়ামারা নদী থেকে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বালু তোলা হচ্ছে। নদীর তলদেশ ও তীর ঘেঁষে বালু তোলায় এরই মধ্যে অনেক বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। রাবার ড্যামের কারণে ওই অংশে বড় নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তুলে পাইপ দিয়ে দূরে থাকা বাল্কহেডে ভরা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হারুন-অর-রশিদ এই ইজারা পাওয়ার পর থেকেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ ড্রেজার চালাচ্ছেন। তার ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলে অপদস্থ হওয়ার ভয় থাকে। এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গেও তিনি অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নদীতীরের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, ‘দিনরাত ৫০-৬০টি ড্রেজার চলে। ড্রেজারের তাণ্ডবে আমার বসতঘরটি যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে রান্নাঘর ভেঙে গেছে, টিউবওয়েলে ফাটল ধরেছে। আমরা এই ড্রেজার বন্ধ চাই।’
ড্রেজারের শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ ও শিশুদের শ্রবণশক্তি হ্রাসসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী। পরিবেশকর্মীরাও এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে ইজারাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ দাবি করেন, প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি ড্রেজার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘রাবার ড্যামের ক্ষতি এড়াতে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেই ড্রেজার দিয়ে বালু সরানো হচ্ছে।’
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ইজারা দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। পুলিশকে সহযোগিতা করতে বলা হলে তারা ব্যবস্থা নেবে। দোয়ারাবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও স্যার ছুটিতে আছেন। আমরা দ্রুতই অভিযান চালিয়ে ইজারার শর্ত ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল মৌখিক অনুমতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। আমরা দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে মামলা করার নির্দেশ দেব।’
আপনার মতামত লিখুন