ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের স্বাক্ষর জাল করে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরি করে এই জালিয়াতির চেষ্টা চালায়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাংবাদিকদের খন্দকার আবু আশফাক নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে নিজের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষায় গত ৭ আগস্ট নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
জিডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি সাংসদের নামে ১০০ কোটি টাকার একটি ভুয়া সম্মতিপত্র তৈরি করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সাংসদ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এই ঋণ নিচ্ছেন এবং ‘এমপি কোটার’ কাজের বিনিময়ে ১৮ মাসের মধ্যে তা পরিশোধ করবেন। জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পেরে আবু আশফাক দ্রুত সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেন, যাতে তার নামে কোনো ঋণ অনুমোদন না হয়।
সাংসদ খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘আমার স্বাক্ষর জাল করে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টার কথা শুনে আমি বিস্মিত। আমার সম্মতি ছাড়া আমার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন জনপ্রতিনিধির সই ও পরিচয় ব্যবহার করে এমন জালিয়াতি আর্থিক খাতের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এটি শুধু ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করা নয়, বরং একটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ বলেন, সংসদ সদস্যের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে থানায় জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে। দ্রুতই চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
আপনার মতামত লিখুন