সংবাদ

কেন চিকিৎসক হতে চায় মেধাবী জেমি?


প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

কেন চিকিৎসক হতে চায় মেধাবী জেমি?
জেনিয়া আফরিন জেমি। ছবি : সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই মাস আগে বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছিলেন বাবা। সেই শোক ও পাহাড়সম অভাবকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে জেনিয়া আফরিন জেমি। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী মোট ১ হাজার ১২৮ নম্বর পেয়েছে।

জেমির বাবা জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিবারে বর্তমানে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। জেমির বড় ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এমন অবস্থায় দুই সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা মা বিলকিছ বেগমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাবার মৃত্যু জেমিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বাবার মতো আর কাউকে যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই লক্ষ্য থেকেই সে চিকিৎসক হতে চায়। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে জেমি বলে, ‘বাবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এই কষ্ট আমি ভুলতে পারি না। আমি ডাক্তার হতে চাই, যাতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। চিকিৎসার অভাবে কাউকে যেন আমার বাবার মতো মরতে না হয়।’

মেয়ের সাফল্যে মা বিলকিছ বেগম খুশি হলেও ভবিষ্যতের খরচ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘জেমির বাবা বেঁচে থাকলে আজ মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে এতটা চিন্তা করতে হতো না। এখন সামর্থ্য নেই বলে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো ও অনেক দূর যেতে পারবে।’

দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জেমির এই ফলাফল তার মেধা ও দৃঢ় মানসিকতারই প্রমাণ। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করতে পারবে।

এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই মাস আগে বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছিলেন বাবা। সেই শোক ও পাহাড়সম অভাবকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে জেনিয়া আফরিন জেমি। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী মোট ১ হাজার ১২৮ নম্বর পেয়েছে।

জেমির বাবা জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিবারে বর্তমানে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। জেমির বড় ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এমন অবস্থায় দুই সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা মা বিলকিছ বেগমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাবার মৃত্যু জেমিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বাবার মতো আর কাউকে যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই লক্ষ্য থেকেই সে চিকিৎসক হতে চায়। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে জেমি বলে, ‘বাবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এই কষ্ট আমি ভুলতে পারি না। আমি ডাক্তার হতে চাই, যাতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। চিকিৎসার অভাবে কাউকে যেন আমার বাবার মতো মরতে না হয়।’

মেয়ের সাফল্যে মা বিলকিছ বেগম খুশি হলেও ভবিষ্যতের খরচ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘জেমির বাবা বেঁচে থাকলে আজ মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে এতটা চিন্তা করতে হতো না। এখন সামর্থ্য নেই বলে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো ও অনেক দূর যেতে পারবে।’

দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জেমির এই ফলাফল তার মেধা ও দৃঢ় মানসিকতারই প্রমাণ। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


কেন চিকিৎসক হতে চায় মেধাবী জেমি?

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই মাস আগে বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছিলেন বাবা। সেই শোক ও পাহাড়সম অভাবকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে জেনিয়া আফরিন জেমি। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী মোট ১ হাজার ১২৮ নম্বর পেয়েছে।

জেমির বাবা জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিবারে বর্তমানে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। জেমির বড় ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এমন অবস্থায় দুই সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা মা বিলকিছ বেগমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাবার মৃত্যু জেমিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বাবার মতো আর কাউকে যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই লক্ষ্য থেকেই সে চিকিৎসক হতে চায়। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে জেমি বলে, ‘বাবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এই কষ্ট আমি ভুলতে পারি না। আমি ডাক্তার হতে চাই, যাতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। চিকিৎসার অভাবে কাউকে যেন আমার বাবার মতো মরতে না হয়।’

মেয়ের সাফল্যে মা বিলকিছ বেগম খুশি হলেও ভবিষ্যতের খরচ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘জেমির বাবা বেঁচে থাকলে আজ মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে এতটা চিন্তা করতে হতো না। এখন সামর্থ্য নেই বলে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো ও অনেক দূর যেতে পারবে।’

দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জেমির এই ফলাফল তার মেধা ও দৃঢ় মানসিকতারই প্রমাণ। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করতে পারবে।

এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই মাস আগে বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছিলেন বাবা। সেই শোক ও পাহাড়সম অভাবকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে জেনিয়া আফরিন জেমি। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী মোট ১ হাজার ১২৮ নম্বর পেয়েছে।

জেমির বাবা জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিবারে বর্তমানে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। জেমির বড় ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এমন অবস্থায় দুই সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা মা বিলকিছ বেগমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাবার মৃত্যু জেমিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বাবার মতো আর কাউকে যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই লক্ষ্য থেকেই সে চিকিৎসক হতে চায়। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে জেমি বলে, ‘বাবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এই কষ্ট আমি ভুলতে পারি না। আমি ডাক্তার হতে চাই, যাতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। চিকিৎসার অভাবে কাউকে যেন আমার বাবার মতো মরতে না হয়।’

মেয়ের সাফল্যে মা বিলকিছ বেগম খুশি হলেও ভবিষ্যতের খরচ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘জেমির বাবা বেঁচে থাকলে আজ মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে এতটা চিন্তা করতে হতো না। এখন সামর্থ্য নেই বলে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো ও অনেক দূর যেতে পারবে।’

দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জেমির এই ফলাফল তার মেধা ও দৃঢ় মানসিকতারই প্রমাণ। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করতে পারবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত