সংবাদ

চার মাস যুদ্ধে আটকে থেকে যেভাবে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি নাবিকরা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

চার মাস যুদ্ধে আটকে থেকে যেভাবে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি নাবিকরা

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আর যুদ্ধাবস্থার মাঝে পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও তার সঙ্গের নাবিকেরা।

যুদ্ধ শুরুর এক মাস আগে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানো এই জাহাজে ৩১ জন নাবিক, চার কোটি ডলারের জাহাজ এবং আটচল্লিশ লাখ ডলারের পণ্যের দায়িত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয় ৫১ বছর বয়সী এই ক্যাপ্টেনকে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। কারণ ৩১টি প্রাণ, চার কোটি ডলারের জাহাজ এবং ৮২ লাখ ডলারের পণ্যের দায়িত্ব আমার ওপর ছিল।"
​সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের চার্টারে পরিচালিত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের বাইরে পৌঁছানোর পরই যুদ্ধের আবহ টের পায়। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কথায়, "বাতাসেই যেন অশনিসংকেত ছিল।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে জাহাজ থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি তেল সংরক্ষণাগারে ক্ষেপণাস্ত্রের বিধ্বংসী আঘাতে পুরো স্থাপনা আগুনে পুড়ে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সবাইকে জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় ক্যাপ্টেন জাহাজেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
​পরবর্তী সময়ে বারবার বিস্ফোরণে জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থাও বিকল হয়ে যায় এবং বহু বছর পর তাকে হাতে-কলমে বাতিঘর দেখে জাহাজ চালাতে হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পূর্ব দিকে যাওয়ার নির্দেশ পেলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটিকে এগোতে দেয়নি।
জাহাজে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিলে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়। ক্যাপ্টেন ইসলাম জানান, প্রথমবার সমুদ্রে আসা অনেক তরুণ নাবিক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং কেউ সারাদিন কোরআন তিলাওয়াত করতেন তো কেউ রিলস্ বা শর্টস্ দেখে সময় কাটাচ্ছিলেন।
​এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়, অবশেষে গত ২৩ জুন জাহাজটি প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়। হরমুজ পার হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ক্যাপ্টেন বলেন, "মনে হয়েছে, আল্লাহই আমাদের পথ দেখিয়েছেন।"
জাহাজের নাবিকদের পাশাপাশি প্রতিদিন দেশে থাকা স্ত্রী-সন্তানকেও আশ্বস্ত করতে হয়েছে। প্রতিবার বাড়ি ফিরলে পরিবার সমুদ্রের চাকরি ছেড়ে দিতে বললেও এখনই থামতে রাজি নন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কারণ তার ভাষায়, "আমি আরও অনেক বছর সমুদ্রে কাজ করে যেতে চাই।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


চার মাস যুদ্ধে আটকে থেকে যেভাবে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি নাবিকরা

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আর যুদ্ধাবস্থার মাঝে পারস্য উপসাগরে প্রায় চার মাস আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও তার সঙ্গের নাবিকেরা।

যুদ্ধ শুরুর এক মাস আগে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানো এই জাহাজে ৩১ জন নাবিক, চার কোটি ডলারের জাহাজ এবং আটচল্লিশ লাখ ডলারের পণ্যের দায়িত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয় ৫১ বছর বয়সী এই ক্যাপ্টেনকে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। কারণ ৩১টি প্রাণ, চার কোটি ডলারের জাহাজ এবং ৮২ লাখ ডলারের পণ্যের দায়িত্ব আমার ওপর ছিল।"
​সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের চার্টারে পরিচালিত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের বাইরে পৌঁছানোর পরই যুদ্ধের আবহ টের পায়। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কথায়, "বাতাসেই যেন অশনিসংকেত ছিল।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে জাহাজ থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি তেল সংরক্ষণাগারে ক্ষেপণাস্ত্রের বিধ্বংসী আঘাতে পুরো স্থাপনা আগুনে পুড়ে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সবাইকে জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় ক্যাপ্টেন জাহাজেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
​পরবর্তী সময়ে বারবার বিস্ফোরণে জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থাও বিকল হয়ে যায় এবং বহু বছর পর তাকে হাতে-কলমে বাতিঘর দেখে জাহাজ চালাতে হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পূর্ব দিকে যাওয়ার নির্দেশ পেলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটিকে এগোতে দেয়নি।
জাহাজে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিলে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়। ক্যাপ্টেন ইসলাম জানান, প্রথমবার সমুদ্রে আসা অনেক তরুণ নাবিক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং কেউ সারাদিন কোরআন তিলাওয়াত করতেন তো কেউ রিলস্ বা শর্টস্ দেখে সময় কাটাচ্ছিলেন।
​এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়, অবশেষে গত ২৩ জুন জাহাজটি প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়। হরমুজ পার হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ক্যাপ্টেন বলেন, "মনে হয়েছে, আল্লাহই আমাদের পথ দেখিয়েছেন।"
জাহাজের নাবিকদের পাশাপাশি প্রতিদিন দেশে থাকা স্ত্রী-সন্তানকেও আশ্বস্ত করতে হয়েছে। প্রতিবার বাড়ি ফিরলে পরিবার সমুদ্রের চাকরি ছেড়ে দিতে বললেও এখনই থামতে রাজি নন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কারণ তার ভাষায়, "আমি আরও অনেক বছর সমুদ্রে কাজ করে যেতে চাই।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত