সংবাদ

চাষের জমিতে মাছ ধরার ধুম


প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

চাষের জমিতে মাছ ধরার ধুম
ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। পাওয়ার টিলার দিয়ে কাদা মাটি চাষ করার সময় উঠে আসা দেশীয় মাছ ধরতে হুলস্থুল পড়ে যাচ্ছে মাঠে। নারী-পুরুষ ও শিশুদের এই মাছ ধরার দৃশ্য এখন উপজেলার সর্বত্র চোখে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রযুক্তির এই যুগে মেশিনের সাহায্যে জমি চাষ করার সময় কাদা মাটি ও আগাছার নিচে থাকা দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে ডালি, চালুন ও ছোট জাল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন শৌখিন মাছশিকারিরা। মাছ ধরার এই ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন পাওয়ার টিলার চালকেরা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে তাদের খুব ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

শান্তিরাম ইউনিয়নের পাওয়ার টিলার চালক ইকবাল আকন্দ বলেন, ‘মাছপ্রেমীদের ভিড়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো কঠিন। অনেক সময় কাদার ভেতর মানুষের হাত বা পা চলে আসার ভয় থাকে। তাই খুব সতর্ক থাকতে হয়।’

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকেরা এখন দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন। যান্ত্রিক চাষাবাদ বাড়ায় পাওয়ার টিলারের চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে, মৎস্য কার্যালয় বলছে, চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে খাল-বিল ও নিচু জলাশয়ে দেশীয় মাছের ব্যাপক প্রজনন হয়েছে, যা এখন চাষের জমিতে পাওয়া যাচ্ছে।

ধুমাইটারি গ্রামের বাসিন্দা বেলাল মিয়া বলেন, ‘পাওয়ার টিলার আসার খবর পেলেই মানুষ এক জায়গায় জড়ো হয়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। দেশীয় মাছের স্বাদই আলাদা, তাই আধঘণ্টায় এক-দেড় কেজি মাছ অনায়াসেই পাওয়া যাচ্ছে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাধব রায় বলেন, ‘এভাবে মাছ শিকার করলে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে কাদার ভেতর পোনা মাছগুলো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এগুলো রক্ষা করতে না পারলে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা জরুরি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


চাষের জমিতে মাছ ধরার ধুম

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। পাওয়ার টিলার দিয়ে কাদা মাটি চাষ করার সময় উঠে আসা দেশীয় মাছ ধরতে হুলস্থুল পড়ে যাচ্ছে মাঠে। নারী-পুরুষ ও শিশুদের এই মাছ ধরার দৃশ্য এখন উপজেলার সর্বত্র চোখে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রযুক্তির এই যুগে মেশিনের সাহায্যে জমি চাষ করার সময় কাদা মাটি ও আগাছার নিচে থাকা দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে ডালি, চালুন ও ছোট জাল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন শৌখিন মাছশিকারিরা। মাছ ধরার এই ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন পাওয়ার টিলার চালকেরা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে তাদের খুব ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

শান্তিরাম ইউনিয়নের পাওয়ার টিলার চালক ইকবাল আকন্দ বলেন, ‘মাছপ্রেমীদের ভিড়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো কঠিন। অনেক সময় কাদার ভেতর মানুষের হাত বা পা চলে আসার ভয় থাকে। তাই খুব সতর্ক থাকতে হয়।’

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকেরা এখন দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন। যান্ত্রিক চাষাবাদ বাড়ায় পাওয়ার টিলারের চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে, মৎস্য কার্যালয় বলছে, চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে খাল-বিল ও নিচু জলাশয়ে দেশীয় মাছের ব্যাপক প্রজনন হয়েছে, যা এখন চাষের জমিতে পাওয়া যাচ্ছে।

ধুমাইটারি গ্রামের বাসিন্দা বেলাল মিয়া বলেন, ‘পাওয়ার টিলার আসার খবর পেলেই মানুষ এক জায়গায় জড়ো হয়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। দেশীয় মাছের স্বাদই আলাদা, তাই আধঘণ্টায় এক-দেড় কেজি মাছ অনায়াসেই পাওয়া যাচ্ছে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাধব রায় বলেন, ‘এভাবে মাছ শিকার করলে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে কাদার ভেতর পোনা মাছগুলো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এগুলো রক্ষা করতে না পারলে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা জরুরি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত