ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি ভর্তুকির সার খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ফেরসাডাঙ্গী বাজারে এই চিত্র দেখা গেলেও অভিযোগ পাওয়ার চার ঘণ্টা পরও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন নয়, বরং জেলাজুড়েই সরকারি সার নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এতে সাধারণ কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্তি ও সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ফেরসাডাঙ্গী বাজারের কয়েকটি দোকানে শত শত বস্তা সরকারি সার মজুত থাকতে দেখা যায়। এসব সার কোন ডিলারের মাধ্যমে সেখানে এল কিংবা বিক্রির বৈধ কোনো কাগজপত্র দোকানিদের কাছে আছে কি না, তা যাচাই করতে গিয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়। সংবাদকর্মীরা প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করলেও প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে আসেননি। ফলে অভিযান না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পরে সদর উপজেলার নারগুন ও শিবগঞ্জ বাজারের কয়েকটি দোকানেও একই পদ্ধতিতে সরকারি সার বিক্রির খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় তারা নির্ধারিত সরকারি দামে সার পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সার কিনছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, “জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। সরকারের ভর্তুকি দেওয়া সার সরাসরি কৃষক পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা। কোনো সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, জেলায় সারের মজুত পর্যাপ্ত। যারা সংকট তৈরির চেষ্টা করবে বা অবৈধভাবে সরকারি সার মজুত করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান না হওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। খোলাবাজারে সরকারি সার পৌঁছানোর উৎস এবং প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন