দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়ায় আবার চরমপন্থী নিয়ে আলোচনা শুরু। একসময় এ জনপথে মানুষ খুন করে স্থানীয় পত্রিকায় এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের কথা জানানো হতো। এমনও দেখা গেছে সরকারি দপ্তরের গেটের কাছে মানুষের কাটা মাথা রেখে যেতো। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ফলে একেবারে নির্ভর হয়েছিল কিন্তু কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চিঠি দিয়ে চাঁদা দাবি ও নিজেদের চরমপন্থী দলের পরিচয় দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মানুষজন।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তিনটি গ্রামে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নামে চাঁদা দাবির চিঠি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুটিমারী, ইশলমারী ও ভেদামারী গ্রামের অন্তত ৩০ পরিবারের কাছে এসব চিঠি পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। চিঠিতে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
চিঠিতে টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয়েছে। এসব চিঠি পাওয়ার পর তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে নতুন করে চরমপন্থী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কে কয়েকটি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
ঘটনাগুলো ঘটেছে মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পুটিমারী, ইশলমারী ও ভেদামারী গ্রামে। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, চিঠিগুলো কারা পাঠিয়েছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে পুটিমারী গ্রামের মৃত খোকন মেম্বারের বাড়ির দরজায় একটি চিঠি রেখে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। চিঠিতে নিজেদের পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা পরিচয় দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন খোকন মেম্বারের পরিবারের সদস্যরা। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তার স্ত্রী রহিমা বেগম বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এরপর একই ধরনের চিঠি পৌঁছায় পাশের ইশলমারী গ্রামের বাজার কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের কাছে। ওই চিঠিতে জীবন জাহান নাম ব্যবহার করে নিজেকে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আনোয়ারের। তার কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ইশলমারী গ্রামের অন্তত ১২ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছে। একইভাবে পুটিমারী ও ভেদামারী গ্রামের আরও কয়েকটি পরিবারের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবার এমন চিঠি পেয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
চিঠিগুলোর ধরনও প্রায় একই। কোথাও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে, আবার কোথাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আশি ও নব্বইয়ের দশকে কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চরমপন্থী সংগঠনগুলোর তৎপরতা ছিল। তখন হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন আতঙ্ক বিরাজ করত। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও বিভিন্ন পদক্ষেপে ওই তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
দীর্ঘ সময় পর পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নাম ব্যবহার করে চাঁদার চিঠি আসায় স্থানীয়দের মধ্যে সেই পুরোনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে। তাদের প্রশ্ন, নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠী আবার সংগঠিত হচ্ছে, নাকি কেউ ওই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে?
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এলাকায় কোনো চরমপন্থী সংগঠনের সক্রিয় তৎপরতার তথ্য পাওয়ার কথা জানায়নি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চিঠিগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, সেটিই এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, চিঠি পাওয়ার পর অনেকে সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। অপরিচিত কাউকে দেখলে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি।
মিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদা দাবির অভিযোগে পাওয়া চিঠিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিঠিতে ব্যবহৃত ভাষা, নাম, দেওয়া বিকাশ নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কারা চিঠি পৌঁছে দিয়েছে এবং বিকাশ নম্বরগুলো কার নামে, সেসব তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, চলাচল বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, উল্লেখিত এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনাগুলো কোনো চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, নাকি আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চিঠির নেপথ্যে চরমপন্থী সংগঠনের সদস্য থাকুক বা অন্য কেউ তাদের নাম ব্যবহার করুক, দ্রুত তাদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে হুমকি পাওয়া পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়ায় আবার চরমপন্থী নিয়ে আলোচনা শুরু। একসময় এ জনপথে মানুষ খুন করে স্থানীয় পত্রিকায় এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের কথা জানানো হতো। এমনও দেখা গেছে সরকারি দপ্তরের গেটের কাছে মানুষের কাটা মাথা রেখে যেতো। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ফলে একেবারে নির্ভর হয়েছিল কিন্তু কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চিঠি দিয়ে চাঁদা দাবি ও নিজেদের চরমপন্থী দলের পরিচয় দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মানুষজন।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তিনটি গ্রামে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নামে চাঁদা দাবির চিঠি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুটিমারী, ইশলমারী ও ভেদামারী গ্রামের অন্তত ৩০ পরিবারের কাছে এসব চিঠি পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। চিঠিতে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
চিঠিতে টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয়েছে। এসব চিঠি পাওয়ার পর তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে নতুন করে চরমপন্থী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কে কয়েকটি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
ঘটনাগুলো ঘটেছে মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পুটিমারী, ইশলমারী ও ভেদামারী গ্রামে। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, চিঠিগুলো কারা পাঠিয়েছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে পুটিমারী গ্রামের মৃত খোকন মেম্বারের বাড়ির দরজায় একটি চিঠি রেখে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। চিঠিতে নিজেদের পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা পরিচয় দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন খোকন মেম্বারের পরিবারের সদস্যরা। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তার স্ত্রী রহিমা বেগম বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এরপর একই ধরনের চিঠি পৌঁছায় পাশের ইশলমারী গ্রামের বাজার কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের কাছে। ওই চিঠিতে জীবন জাহান নাম ব্যবহার করে নিজেকে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আনোয়ারের। তার কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ইশলমারী গ্রামের অন্তত ১২ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছে। একইভাবে পুটিমারী ও ভেদামারী গ্রামের আরও কয়েকটি পরিবারের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবার এমন চিঠি পেয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
চিঠিগুলোর ধরনও প্রায় একই। কোথাও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে, আবার কোথাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আশি ও নব্বইয়ের দশকে কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চরমপন্থী সংগঠনগুলোর তৎপরতা ছিল। তখন হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন আতঙ্ক বিরাজ করত। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও বিভিন্ন পদক্ষেপে ওই তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
দীর্ঘ সময় পর পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নাম ব্যবহার করে চাঁদার চিঠি আসায় স্থানীয়দের মধ্যে সেই পুরোনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে। তাদের প্রশ্ন, নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠী আবার সংগঠিত হচ্ছে, নাকি কেউ ওই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে?
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এলাকায় কোনো চরমপন্থী সংগঠনের সক্রিয় তৎপরতার তথ্য পাওয়ার কথা জানায়নি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চিঠিগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, সেটিই এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, চিঠি পাওয়ার পর অনেকে সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। অপরিচিত কাউকে দেখলে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি।
মিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদা দাবির অভিযোগে পাওয়া চিঠিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিঠিতে ব্যবহৃত ভাষা, নাম, দেওয়া বিকাশ নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কারা চিঠি পৌঁছে দিয়েছে এবং বিকাশ নম্বরগুলো কার নামে, সেসব তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, চলাচল বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, উল্লেখিত এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনাগুলো কোনো চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, নাকি আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চিঠির নেপথ্যে চরমপন্থী সংগঠনের সদস্য থাকুক বা অন্য কেউ তাদের নাম ব্যবহার করুক, দ্রুত তাদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে হুমকি পাওয়া পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন