আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান ৯ আগস্ট এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ওসি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজ দায়িত্বে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। ১১ আগস্ট বিষয়টি জানাজানি হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার মোমারিজপুর গ্রামের বিবি মারজাহান নামের এক নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় মামলা করতে যান। তবে ওসি ফয়জুল আজিম লিখিত আবেদনটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারক ঘটনাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই আদেশও উপেক্ষা করেন ওসি। প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী পুনরায় আদালতে আবেদন জানালে বিচারক এই কঠোর আদেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ, মামলা ও জিডি গ্রহণে অর্থ দাবি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন কৌশলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন।
এর আগে ২০১৯ সালে বিজয়নগর থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ওই সময় তার শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে ৩৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগেও তিনি সমালোচিত ছিলেন।
সাবেক মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই এবং দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, ওসির প্রত্যক্ষ মদদে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিনি নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ইন্ধন দিচ্ছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে অপমান করা ওসির নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আদালতের আদেশের বিষয়ে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত ওসি ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, “আদালত কী নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি আদালতের বিষয়। আমি যা করেছি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই করেছি। একটি আত্মহত্যার ঘটনাকে আমি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে পারি না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”
আপনার মতামত লিখুন