সংবাদ

পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে মির্জা ফখরুল


প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে মির্জা ফখরুল
ছবি : সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে জন্ম ও ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি এবং পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন। সেখান থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্ব হয়ে এখন দেশের রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একের পর এক দায়িত্ব পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তিনি ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব এবং বিএনপির মহাসচিবসহ সব দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের এই কৃতী সন্তানের জীবন যেন এক দীর্ঘ অভিযাত্রা। বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, রাজপথের আন্দোলন, কারাবরণ, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন - সব মিলিয়ে বর্ণাঢ্য তার ক্যারিয়ার।

জন্ম ও ছাত্ররাজনীতি
মির্জা ফখরুল ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী ও রাজনীতিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন ফখরুল। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম ছাত্রনেতা ছিলেন। শুরুতে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি মওলানা ভাসানীর ন্যাপের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

পেশাজীবন ও স্থানীয় রাজনীতি
অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ান। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন। ১৯৮৮ সালের পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই দায়িত্বই তাকে তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে।

বিএনপিতে উত্থান ও নেতৃত্ব
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ এক দশক তিনি বিএনপির মুখপাত্র ও অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নতুন অধ্যায়
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তবে ২০২৬ সালের আগস্টে এসে তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন মোড় আসে। বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করলে তিনি মন্ত্রিসভা ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

যে পথচলা শুরু হয়েছিল পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে, চার দশকের ব্যবধানে সেই গন্তব্য এখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের দিকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাসে যুক্ত হবে এক নতুন গৌরবগাথা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে জন্ম ও ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি এবং পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন। সেখান থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্ব হয়ে এখন দেশের রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একের পর এক দায়িত্ব পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তিনি ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব এবং বিএনপির মহাসচিবসহ সব দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের এই কৃতী সন্তানের জীবন যেন এক দীর্ঘ অভিযাত্রা। বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, রাজপথের আন্দোলন, কারাবরণ, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন - সব মিলিয়ে বর্ণাঢ্য তার ক্যারিয়ার।

জন্ম ও ছাত্ররাজনীতি
মির্জা ফখরুল ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী ও রাজনীতিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন ফখরুল। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম ছাত্রনেতা ছিলেন। শুরুতে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি মওলানা ভাসানীর ন্যাপের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

পেশাজীবন ও স্থানীয় রাজনীতি
অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ান। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন। ১৯৮৮ সালের পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই দায়িত্বই তাকে তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে।

বিএনপিতে উত্থান ও নেতৃত্ব
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ এক দশক তিনি বিএনপির মুখপাত্র ও অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নতুন অধ্যায়
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তবে ২০২৬ সালের আগস্টে এসে তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন মোড় আসে। বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করলে তিনি মন্ত্রিসভা ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

যে পথচলা শুরু হয়েছিল পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে, চার দশকের ব্যবধানে সেই গন্তব্য এখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের দিকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাসে যুক্ত হবে এক নতুন গৌরবগাথা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত