সংবাদ

৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়ে আইজিপিকে চিঠি


ফয়েজ আহমেদ তুষার
ফয়েজ আহমেদ তুষার
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়ে আইজিপিকে চিঠি
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের পল্লী এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছে। চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ জনতা হয়ে কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনস্থ দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চাহিদা ও সরবরাহ

বুধবার জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ভোর ৪টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ১৮ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় লোডশেডিং বেড়ে ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।

প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

চলমান গ্যাস সংকটে বিদ্যুতে লোডশেডিং এর জন্য জনদুর্ভোগের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি  বলেন, সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অন্য টার্মিনালটিও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে।

চার কোটি গ্রাহক

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দেয়। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ এসব সমিতির আওতায়। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও তাদের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও দৈনিক ৮, ১০ এমনকি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আইজিপি'র কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনরোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে কিছু বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

হামলা-ভাঙচুর, অবরুদ্ধ কর্মকর্তা

লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। গত ১০ আগস্ট টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলা চালান বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। সেখানে আব্দুল লতিফ নামে এক লাইনম্যানকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। এর আগে গত ১ আগস্ট রাতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রাহকেরা আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

একই দিন পাবনার ঈশ্বরদীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তারাও গ্রাহকদের রোষের মুখে পড়েন।

আইজিপিকে পাঠানো চিঠি

ডিসি এসপিদের কাছে চিঠি

নেত্রকোণায় দিন-রাত মিলিয়ে কোনো কোনো এলাকায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক ( ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জেও দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস ও স্থাপনায় হামলার আশঙ্কায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে। চিঠিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিয়মিত পুলিশি টহলের অনুরোধ করা হয়েছে।

নীলফামারীর ডোমারেও জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির কারণে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ায় ডোমার জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে থানায় লিখিতভাবে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি ও রাতে টহল বাড়ানো হয়েছে।

গ্যাস কমায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি

পল্লী এলাকায় লোডশেডিং বাড়ার পেছনে জ্বালানি সংকট বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

গত কয়েক দিন কিছুটা স্বস্তির পর আবার কমেছে এলএনজি সরবরাহ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় মহেশখালীতে সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। দুই টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

এদিকে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে সাময়িক বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে টার্মিনালটির সক্ষমতা ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পূর্ণ সক্ষমতায় টার্মিনালটি চালাতে একটি বয়লার সচল করতে হবে। এ জন্য প্রায় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটির উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। কোন সময়ে বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে প্রভাব কম হবে, তা নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়ে আইজিপিকে চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের পল্লী এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছে। চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ জনতা হয়ে কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনস্থ দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চাহিদা ও সরবরাহ

বুধবার জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ভোর ৪টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ১৮ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় লোডশেডিং বেড়ে ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।

প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

চলমান গ্যাস সংকটে বিদ্যুতে লোডশেডিং এর জন্য জনদুর্ভোগের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি  বলেন, সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অন্য টার্মিনালটিও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে।

চার কোটি গ্রাহক

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দেয়। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ এসব সমিতির আওতায়। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও তাদের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও দৈনিক ৮, ১০ এমনকি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আইজিপি'র কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনরোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে কিছু বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

হামলা-ভাঙচুর, অবরুদ্ধ কর্মকর্তা

লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। গত ১০ আগস্ট টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলা চালান বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। সেখানে আব্দুল লতিফ নামে এক লাইনম্যানকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। এর আগে গত ১ আগস্ট রাতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রাহকেরা আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

একই দিন পাবনার ঈশ্বরদীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তারাও গ্রাহকদের রোষের মুখে পড়েন।

আইজিপিকে পাঠানো চিঠি

ডিসি এসপিদের কাছে চিঠি

নেত্রকোণায় দিন-রাত মিলিয়ে কোনো কোনো এলাকায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক ( ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জেও দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস ও স্থাপনায় হামলার আশঙ্কায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে। চিঠিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিয়মিত পুলিশি টহলের অনুরোধ করা হয়েছে।

নীলফামারীর ডোমারেও জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির কারণে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ায় ডোমার জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে থানায় লিখিতভাবে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি ও রাতে টহল বাড়ানো হয়েছে।

গ্যাস কমায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি

পল্লী এলাকায় লোডশেডিং বাড়ার পেছনে জ্বালানি সংকট বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

গত কয়েক দিন কিছুটা স্বস্তির পর আবার কমেছে এলএনজি সরবরাহ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় মহেশখালীতে সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। দুই টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

এদিকে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে সাময়িক বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে টার্মিনালটির সক্ষমতা ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পূর্ণ সক্ষমতায় টার্মিনালটি চালাতে একটি বয়লার সচল করতে হবে। এ জন্য প্রায় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটির উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। কোন সময়ে বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে প্রভাব কম হবে, তা নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত