বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ের পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার পথচলা শুরু হয়েছিল ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে।
১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন। পরে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। ২০১১ সালের মার্চ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির বাইরে ফখরুলের পারিবারিক পটভূমিও সমৃদ্ধ। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ঠাকুরগাঁও থেকে কয়েকবার সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপি রাজনীতিবিদ ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার। আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা মুজিবনগর সরকারে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
পরে সরকারি কলেজে শিক্ষকতা, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাদের দুই মেয়ে- বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব- দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এক সময় হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান। এখন সেই মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ের পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার পথচলা শুরু হয়েছিল ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে।
১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন। পরে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। ২০১১ সালের মার্চ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির বাইরে ফখরুলের পারিবারিক পটভূমিও সমৃদ্ধ। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ঠাকুরগাঁও থেকে কয়েকবার সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপি রাজনীতিবিদ ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার। আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা মুজিবনগর সরকারে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
পরে সরকারি কলেজে শিক্ষকতা, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাদের দুই মেয়ে- বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব- দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এক সময় হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান। এখন সেই মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

আপনার মতামত লিখুন