নরসিংদীর মনোহরদীতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে স্থানীয় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। এতে উপজেলার পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার চাপে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার একমাত্র ‘আনোয়ার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে’ প্রতিদিন শত শত যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর একেকটি গাড়ি মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস পাচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের চাপের চেয়ে ‘হাওয়া’ বেশি থাকায় গাড়ি নিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাদের বারবার স্টেশনে ফিরে আসতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের চালকেরা। দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে থাকায় তাদের দৈনিক আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে মাঝপথেই যাত্রী নামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এদিকে সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। এই সুযোগে কিছু চালক যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা-কিশোরগঞ্জ ও মঠখোলা মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ লাঘবের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা।
আপনার মতামত লিখুন