সংবাদ

সাতক্ষীরায় প্রতি ৪ জনে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তু: সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

সাতক্ষীরায় প্রতি ৪ জনে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তু: সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরা পৌর শহরের প্রতি চারজন বাসিন্দার একজনই জলবায়ু উদ্বাস্তু ও নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততায় ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসন সংকট নিরসন এবং দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ‘সাতক্ষীরার নিম্ন আয়ের ভূমিহীন বস্তিবাসীর আবাসন সংকট সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক)।

গ্রিন কোয়ালিশন সাতক্ষীরার সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান।

ধারণাপত্রে বলা হয়, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব হওয়া মানুষ জীবিকার তাগিদে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। বর্তমানে শহরের প্রায় দুই লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ নিম্ন আয়ের পথবাসী বা বস্তিবাসী। অর্থাৎ শহরের প্রতি চারজনে একজন মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নির্মাণশিল্পসহ বিভিন্ন কায়িক শ্রমে যুক্ত থেকে এই মানুষগুলো শহরকে সচল রাখলেও নগর পরিকল্পনায় তারা বরাবরই উপেক্ষিত। উপরন্তু, ২০২৪ সালে সড়ক প্রশস্তকরণের নামে ইটাগাছা বস্তির ১০৪টি পরিবারকে কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়, যারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংলাপে বক্তারা বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করায় বস্তিবাসীরা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং তাদের উপার্জনের প্রায় ৩০ শতাংশ টাকা চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নগর দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি, পবিত্র মোহন দাশ, কিশোরী মোহন সরকার, মাধব চন্দ্র দত্ত, এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, গোলাম সরোয়ার, আলী নুর খান বাবুল, সিদ্দিকুর রহমান, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম, সাংস্কৃতিক কর্মী দিলরুবা রুবি এবং উন্নয়ন কর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা। বস্তিবাসীদের পক্ষে কুমারেশ সরকার, জোবেদা খাতুন ও মাজেদা খাতুন তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

সংলাপ থেকে উত্থাপিত ৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বস্তিতে সরকারি ভর্তুকিতে পানি ও বিদ্যুৎ সেবা প্রদান, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ করা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


সাতক্ষীরায় প্রতি ৪ জনে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তু: সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরা পৌর শহরের প্রতি চারজন বাসিন্দার একজনই জলবায়ু উদ্বাস্তু ও নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততায় ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসন সংকট নিরসন এবং দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ‘সাতক্ষীরার নিম্ন আয়ের ভূমিহীন বস্তিবাসীর আবাসন সংকট সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক)।

গ্রিন কোয়ালিশন সাতক্ষীরার সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান।

ধারণাপত্রে বলা হয়, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব হওয়া মানুষ জীবিকার তাগিদে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। বর্তমানে শহরের প্রায় দুই লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ নিম্ন আয়ের পথবাসী বা বস্তিবাসী। অর্থাৎ শহরের প্রতি চারজনে একজন মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নির্মাণশিল্পসহ বিভিন্ন কায়িক শ্রমে যুক্ত থেকে এই মানুষগুলো শহরকে সচল রাখলেও নগর পরিকল্পনায় তারা বরাবরই উপেক্ষিত। উপরন্তু, ২০২৪ সালে সড়ক প্রশস্তকরণের নামে ইটাগাছা বস্তির ১০৪টি পরিবারকে কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়, যারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংলাপে বক্তারা বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করায় বস্তিবাসীরা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং তাদের উপার্জনের প্রায় ৩০ শতাংশ টাকা চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নগর দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি, পবিত্র মোহন দাশ, কিশোরী মোহন সরকার, মাধব চন্দ্র দত্ত, এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, গোলাম সরোয়ার, আলী নুর খান বাবুল, সিদ্দিকুর রহমান, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম, সাংস্কৃতিক কর্মী দিলরুবা রুবি এবং উন্নয়ন কর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা। বস্তিবাসীদের পক্ষে কুমারেশ সরকার, জোবেদা খাতুন ও মাজেদা খাতুন তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

সংলাপ থেকে উত্থাপিত ৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বস্তিতে সরকারি ভর্তুকিতে পানি ও বিদ্যুৎ সেবা প্রদান, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ করা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত