সংবাদ

বাবার শেষ বিদায়ে মায়ের মুক্তি, দীপু মনির মেয়ের ছুটোছুটি


প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ
প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

বাবার শেষ বিদায়ে মায়ের মুক্তি, দীপু মনির মেয়ের ছুটোছুটি
দীপু মনির মেয়ে তানি দিপাবলি নেওয়াজ

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বসে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবরটি পৌঁছে যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে। খবর শুনে ডা. দীপু মনি নীরবে কান্না ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারাগারের সামনে উপস্থিত হন দীপু মনির মেয়ে তানি দিপাবলি নেওয়াজ। সাক্ষাৎ করেন মায়ের সঙ্গে।বাবাকে শেষবার বিদায় জানানো আর মায়ের প্যারোলের আবেদনের বিষয়ে আলোচনা করেন।

মায়ের সঙ্গে কথা বলে কারাগার থেকে বেরিয়ে দিপাবলি গাড়ি করে ছুটে যান মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের আরও সদস্য এবং আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের কাছে মায়ের পেরোলে মুক্তির আবেদন করেন। চার দিনের জন্য মুক্তি চাওয়া হয় আবেদনে।

আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, স্বামীর মৃত্যুর কারণে মানবিক বিবেচনায় এই আবেদন করা হয়েছে। 

ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক একটি ল ফার্মের প্রধান। ধ্রুপদী সংগীতের অনুরাগী তিনি ‘আলাপ’ নামের সংগীত সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।  মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগেছেন। তার স্ত্রী সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে। প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর স্বামীর লাশ দাফন করবেন।

কারাগার কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত। আবেদন গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ডা. দীপু মনি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা রয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মে অসুস্থ স্বামীকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে নিয়ে এসেছিলেন স্বজনেরা, যেন তিনি কারাবন্দী স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন; সেটিই ছিল তাদের শেষ সাক্ষাৎ।

প্রচলিত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে সাধারণত ১২ ঘণ্টার জন্য বন্দীকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। সেই নিয়ম অনুসরণ করেই দীপু মনির আইনি দল এই আবেদন করে।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


বাবার শেষ বিদায়ে মায়ের মুক্তি, দীপু মনির মেয়ের ছুটোছুটি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বসে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবরটি পৌঁছে যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে। খবর শুনে ডা. দীপু মনি নীরবে কান্না ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারাগারের সামনে উপস্থিত হন দীপু মনির মেয়ে তানি দিপাবলি নেওয়াজ। সাক্ষাৎ করেন মায়ের সঙ্গে।বাবাকে শেষবার বিদায় জানানো আর মায়ের প্যারোলের আবেদনের বিষয়ে আলোচনা করেন।

মায়ের সঙ্গে কথা বলে কারাগার থেকে বেরিয়ে দিপাবলি গাড়ি করে ছুটে যান মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের আরও সদস্য এবং আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের কাছে মায়ের পেরোলে মুক্তির আবেদন করেন। চার দিনের জন্য মুক্তি চাওয়া হয় আবেদনে।

আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, স্বামীর মৃত্যুর কারণে মানবিক বিবেচনায় এই আবেদন করা হয়েছে। 

ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক একটি ল ফার্মের প্রধান। ধ্রুপদী সংগীতের অনুরাগী তিনি ‘আলাপ’ নামের সংগীত সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।  মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগেছেন। তার স্ত্রী সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে। প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর স্বামীর লাশ দাফন করবেন।

কারাগার কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত। আবেদন গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ডা. দীপু মনি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা রয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মে অসুস্থ স্বামীকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে নিয়ে এসেছিলেন স্বজনেরা, যেন তিনি কারাবন্দী স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন; সেটিই ছিল তাদের শেষ সাক্ষাৎ।

প্রচলিত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে সাধারণত ১২ ঘণ্টার জন্য বন্দীকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। সেই নিয়ম অনুসরণ করেই দীপু মনির আইনি দল এই আবেদন করে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত