সংবাদ

থানচি বাজার মাল্টিপারপাস ইজারা: টেন্ডার ছাড়াই হস্তান্তরের অভিযোগ


সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ এএম

থানচি বাজার মাল্টিপারপাস ইজারা: টেন্ডার ছাড়াই হস্তান্তরের অভিযোগ
ছবি : সংবাদ

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন থানচি বাজার মাল্টিপারপাসের ইজারা হস্তান্তরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৈধ ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই বাজারটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রক্রিয়ায় পরিষদের এক কর্মচারীর যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর টেন্ডারের মাধ্যমে ৩২ লাখ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য থানচি বাজার মাল্টিপারপাসের ইজারা পান ঠিকাদার শৈক্যচিং মারমা। চুক্তি অনুযায়ী এই ইজারার মেয়াদ ২০২৭ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত। শৈক্যচিং মারমা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চার বছরের জন্য মোট ২৫ লাখ ৭ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সুজিত বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাজারটি অন্য একজনের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো বিজ্ঞপ্তি বা টেন্ডার ছাড়াই চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য বিএনপি নেতা মংশৈম্রাই মারমার সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হয়েছে। নতুন ইজারাদার ইতিমধ্যে নামমাত্র একটি চুক্তির মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, নতুন এই চুক্তিতে কোনো সাক্ষীর নাম পর্যন্ত নেই।

বৈধ ইজারাদার শৈক্যচিং মারমা অভিযোগ করেন, ‘পাওনা কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য সুজিত বড়ুয়া আমাকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। আমি ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরও গোপনে বাজারটি মংশৈম্রাই মারমার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে সুজিত বড়ুয়া বলেন, ‘বকেয়া থাকায় আগের ইজারাদারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ টেন্ডার ছাড়া হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, ‘আগেও টেন্ডার ছাড়া ইজারা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমানেও দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার কথাই চলবে।’

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই অবশ্য এই হস্তান্তরের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শৈক্যচিং মারমাই বৈধ ইজারাদার। টেন্ডার ছাড়া সরকারি স্থাপনা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তায় ওই বাজারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


থানচি বাজার মাল্টিপারপাস ইজারা: টেন্ডার ছাড়াই হস্তান্তরের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন থানচি বাজার মাল্টিপারপাসের ইজারা হস্তান্তরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৈধ ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই বাজারটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রক্রিয়ায় পরিষদের এক কর্মচারীর যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর টেন্ডারের মাধ্যমে ৩২ লাখ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য থানচি বাজার মাল্টিপারপাসের ইজারা পান ঠিকাদার শৈক্যচিং মারমা। চুক্তি অনুযায়ী এই ইজারার মেয়াদ ২০২৭ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত। শৈক্যচিং মারমা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চার বছরের জন্য মোট ২৫ লাখ ৭ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সুজিত বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাজারটি অন্য একজনের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো বিজ্ঞপ্তি বা টেন্ডার ছাড়াই চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য বিএনপি নেতা মংশৈম্রাই মারমার সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হয়েছে। নতুন ইজারাদার ইতিমধ্যে নামমাত্র একটি চুক্তির মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, নতুন এই চুক্তিতে কোনো সাক্ষীর নাম পর্যন্ত নেই।

বৈধ ইজারাদার শৈক্যচিং মারমা অভিযোগ করেন, ‘পাওনা কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য সুজিত বড়ুয়া আমাকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। আমি ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরও গোপনে বাজারটি মংশৈম্রাই মারমার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে সুজিত বড়ুয়া বলেন, ‘বকেয়া থাকায় আগের ইজারাদারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ টেন্ডার ছাড়া হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, ‘আগেও টেন্ডার ছাড়া ইজারা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমানেও দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার কথাই চলবে।’

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই অবশ্য এই হস্তান্তরের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শৈক্যচিং মারমাই বৈধ ইজারাদার। টেন্ডার ছাড়া সরকারি স্থাপনা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তায় ওই বাজারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত