রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাসুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। খুনিরা পরিকল্পিতভাবে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধান্ত নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন - রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী প্রার্থী চক্রবর্তী (২৪) এবং ছেলে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়াম চক্রবর্তী (১২)। স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত থেকে তাদের চারজনেরই মুঠোফোন বন্ধ ছিল। কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে স্বজনরা এলাকায় গিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতর একজনের এবং ছাদের কাছাকাছি এলাকায় অপর তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই তলা ওই বাড়ির আলমারিগুলো ভাঙা এবং সোনার অলংকারের বাক্সসহ মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এলাকাবাসী ও পুলিশের ধারণা, খুনিরা বাড়ির সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে অন্ধকারে বাসায় প্রবেশ করেছিল। এরপর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে বাধা দেওয়ায় পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মরদেহগুলো কিছুটা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার কর্মস্থল ও এলাকায়। রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, গণপতি চক্রবর্তী গত জানুয়ারিতে অবসরে গেলেও অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তার ছেলে প্রিয়ামও এই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে রোববার (২৩ আগস্ট) জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলালও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলাম জানান, দুইজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ও সিআইডি ঘটনার পেছনের মূল কারণ এবং খুনিদের শনাক্ত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটলেও প্রতিবেশীরা কেন টের পায়নি, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাসুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। খুনিরা পরিকল্পিতভাবে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধান্ত নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন - রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী প্রার্থী চক্রবর্তী (২৪) এবং ছেলে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়াম চক্রবর্তী (১২)। স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত থেকে তাদের চারজনেরই মুঠোফোন বন্ধ ছিল। কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে স্বজনরা এলাকায় গিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতর একজনের এবং ছাদের কাছাকাছি এলাকায় অপর তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই তলা ওই বাড়ির আলমারিগুলো ভাঙা এবং সোনার অলংকারের বাক্সসহ মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এলাকাবাসী ও পুলিশের ধারণা, খুনিরা বাড়ির সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে অন্ধকারে বাসায় প্রবেশ করেছিল। এরপর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে বাধা দেওয়ায় পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মরদেহগুলো কিছুটা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার কর্মস্থল ও এলাকায়। রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, গণপতি চক্রবর্তী গত জানুয়ারিতে অবসরে গেলেও অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তার ছেলে প্রিয়ামও এই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে রোববার (২৩ আগস্ট) জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলালও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলাম জানান, দুইজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ও সিআইডি ঘটনার পেছনের মূল কারণ এবং খুনিদের শনাক্ত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটলেও প্রতিবেশীরা কেন টের পায়নি, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন