ম্যাচ শেষ, জয় এসেছে। কিন্তু বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের সেই স্বস্তির জয় ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম জুড়ে নেমে এল এক বিষাদের ছায়া। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে যখন মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়ালেন লিওনেল মেসি, তখন গ্যালারিতে থাকা ৮৫ হাজার দর্শকের চোখ অশ্রুসজল। সতীর্থ, পরিবার, ক্যারিয়ারের সাফল্য-ব্যর্থতা আর প্রিয় আকাশি-সাদা জার্সির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
বক্তব্যের শুরুতেই বিদায়ের কঠিন সত্য আর ক্যারিয়ারে বাবার অবদানের কথা স্মরণ করেন মেসি। তিনি বলেন, “আজ কিছু বলাটা ভীষণ কঠিন। অনেক স্মৃতি আর আবেগ ভিড় করছে। বিদায়ী চিঠিতে যা লিখেছিলাম, আজও তা-ই বলছি–আমার বাবার কথা খুব মনে পড়ছে, আমি সবার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।”
২০০৫ সালে অভিষেক হওয়ার পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বহু সমালোচনা ও হতাশা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত এনে দিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা। সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি গায়ে দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। কঠিনতম সময়েও আমি কখনো লড়তে পিছপা হইনি, নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।”
জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মেসি নিজের জন্য সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, “আর কখনো এই জার্সিতে মাঠে ফিরতে পারব না, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, সরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। ক্যারিয়ারের এই প্রান্তে এসে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ভীষণ কঠিন হয়ে উঠছিল।”
বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি আজও বুয়েনস আইরেসের বাতাসকে ভারী করে তোলে। সেই স্মৃতি তুলে ধরে মেসি বলেন, “বিশ্বকাপ জেতার পর এই মাঠে যখন আমরা আবার খেলতে নেমেছিলাম, সেটা আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল। আজ আবার সেই একই মাঠে দাঁড়িয়ে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের দিনটির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কারণ আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিচ্ছি।”
ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনা দলের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার শক্ত বার্তা দিয়ে মেসি বলেন, “আমরা যখন এক থাকি, তখন যেকোনো বাধা টপকে যাওয়া সম্ভব। কঠিন দিন আসবে, তখন দলকে আরও বেশি সমর্থন দিতে হবে। একটা কথা মনে রাখবেন, অনেকে চাইবে এই দলকে ব্যর্থ দেখতে, তাদের সেই সুযোগ যেন দেওয়া না হয়।”
ভাষণের শেষ পর্যায়ে এসে নিজের চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ভারী কণ্ঠে তিনি বলে ওঠেন, “সত্যি বলতে, আমি আজ বিদায় জানাতে চাই না। এই মাঠ ছেড়ে যেতে আমার মন সায় দিচ্ছে না। তবে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরেছি। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।”
বিদায় জানালেও ভক্তদের আশ্বস্ত করে মেসি জানান, এখন থেকে তিনি মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং গ্যালারিতে বসে প্রিয় আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়ে গ্যালারি থেকে চিৎকার করবেন।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ম্যাচ শেষ, জয় এসেছে। কিন্তু বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের সেই স্বস্তির জয় ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম জুড়ে নেমে এল এক বিষাদের ছায়া। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে যখন মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়ালেন লিওনেল মেসি, তখন গ্যালারিতে থাকা ৮৫ হাজার দর্শকের চোখ অশ্রুসজল। সতীর্থ, পরিবার, ক্যারিয়ারের সাফল্য-ব্যর্থতা আর প্রিয় আকাশি-সাদা জার্সির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
বক্তব্যের শুরুতেই বিদায়ের কঠিন সত্য আর ক্যারিয়ারে বাবার অবদানের কথা স্মরণ করেন মেসি। তিনি বলেন, “আজ কিছু বলাটা ভীষণ কঠিন। অনেক স্মৃতি আর আবেগ ভিড় করছে। বিদায়ী চিঠিতে যা লিখেছিলাম, আজও তা-ই বলছি–আমার বাবার কথা খুব মনে পড়ছে, আমি সবার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।”
২০০৫ সালে অভিষেক হওয়ার পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বহু সমালোচনা ও হতাশা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত এনে দিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা। সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি গায়ে দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। কঠিনতম সময়েও আমি কখনো লড়তে পিছপা হইনি, নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।”
জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মেসি নিজের জন্য সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, “আর কখনো এই জার্সিতে মাঠে ফিরতে পারব না, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, সরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। ক্যারিয়ারের এই প্রান্তে এসে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ভীষণ কঠিন হয়ে উঠছিল।”
বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি আজও বুয়েনস আইরেসের বাতাসকে ভারী করে তোলে। সেই স্মৃতি তুলে ধরে মেসি বলেন, “বিশ্বকাপ জেতার পর এই মাঠে যখন আমরা আবার খেলতে নেমেছিলাম, সেটা আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল। আজ আবার সেই একই মাঠে দাঁড়িয়ে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের দিনটির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কারণ আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিচ্ছি।”
ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনা দলের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার শক্ত বার্তা দিয়ে মেসি বলেন, “আমরা যখন এক থাকি, তখন যেকোনো বাধা টপকে যাওয়া সম্ভব। কঠিন দিন আসবে, তখন দলকে আরও বেশি সমর্থন দিতে হবে। একটা কথা মনে রাখবেন, অনেকে চাইবে এই দলকে ব্যর্থ দেখতে, তাদের সেই সুযোগ যেন দেওয়া না হয়।”
ভাষণের শেষ পর্যায়ে এসে নিজের চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ভারী কণ্ঠে তিনি বলে ওঠেন, “সত্যি বলতে, আমি আজ বিদায় জানাতে চাই না। এই মাঠ ছেড়ে যেতে আমার মন সায় দিচ্ছে না। তবে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরেছি। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।”
বিদায় জানালেও ভক্তদের আশ্বস্ত করে মেসি জানান, এখন থেকে তিনি মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং গ্যালারিতে বসে প্রিয় আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়ে গ্যালারি থেকে চিৎকার করবেন।

আপনার মতামত লিখুন