সংবাদ

নিষিদ্ধ জালে শেষ হচ্ছে পোনা, বিপন্ন দেশি মাছ


জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

নিষিদ্ধ জালে শেষ হচ্ছে পোনা, বিপন্ন দেশি মাছ
‘চায়না দুয়ারি’ আর নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে ধরা পড়ছে পোনাও। ছবি : সংবাদ

একসময় ঠাকুরগাঁওয়ের নদী, নালা আর খাল-বিল ছিল রূপালি শস্য তথা দেশি মাছে ভরপুর। বর্ষা এলেই জেলেদের জালে ধরা পড়ত শোল, বোয়াল, আইড়সহ হরেক প্রজাতির মাছ। কিন্তু দিন বদলেছে। নির্বিচারে মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার আর প্রজনন মৌসুমেও নিধন না থামায় জেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক দেশি প্রজাতির মাছ। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এসব মাছের দাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভরা বর্ষায় যখন অধিকাংশ দেশি মাছের ডিম ছাড়ার ও বংশবিস্তারের সময়, তখনই জেলার নদী ও জলাশয়গুলোতে চলছে অবাধ শিকার। অসাধু জেলেরা ব্যবহার করছেন নিষিদ্ধ রিং জাল, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল। এসব সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে বড় মাছের পাশাপাশি উঠে আসছে প্রচুর পরিমাণ পোনা ও অপরিপক্ক মাছ। ফলে মাছগুলো বড় হওয়ার বা বংশবৃদ্ধির আর সুযোগ পাচ্ছে না।

বাজারে মাছ কিনতে আসা আজিজুল হক বলেন, ‘নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে আমাদের কপালে আর দেশি মাছ জুটবে না। বর্ষার এ সময়টাতে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করলে মৌসুম শেষে বাজারে মাছের জোগান বাড়ত, দামও কমত।’

মাছ বিক্রেতা রফিকুল হকের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করেন না। তবে কিছু অসাধু জেলের কারণে পুরো মৎস্য সম্পদ আজ হুমকির মুখে। ছোট-বড় সব মাছ একসঙ্গে ধরে ফেলায় বাজারে মাছের আকাল দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান মাঝেমধ্যে হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। প্রজনন মৌসুমে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে দেশি মাছের সংকট আগামীতে আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম মাছের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এ সময় পোনা নিধন বন্ধ করা না গেলে শুধু মৎস্য সম্পদই নয়, বরং পুরো জলজ জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, ‘দেশি মাছ রক্ষায় আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে। দেশি মাছ আমাদের জীববৈচিত্র্যের এক অমূল্য অংশ, যা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল সরকারি অভিযান নয়, মাছের বংশবিস্তারের জন্য বর্ষার কয়েক মাস সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে ঠাকুরগাঁওয়ের নদী-নালায় দেশি মাছের সেই সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


নিষিদ্ধ জালে শেষ হচ্ছে পোনা, বিপন্ন দেশি মাছ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একসময় ঠাকুরগাঁওয়ের নদী, নালা আর খাল-বিল ছিল রূপালি শস্য তথা দেশি মাছে ভরপুর। বর্ষা এলেই জেলেদের জালে ধরা পড়ত শোল, বোয়াল, আইড়সহ হরেক প্রজাতির মাছ। কিন্তু দিন বদলেছে। নির্বিচারে মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার আর প্রজনন মৌসুমেও নিধন না থামায় জেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক দেশি প্রজাতির মাছ। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এসব মাছের দাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভরা বর্ষায় যখন অধিকাংশ দেশি মাছের ডিম ছাড়ার ও বংশবিস্তারের সময়, তখনই জেলার নদী ও জলাশয়গুলোতে চলছে অবাধ শিকার। অসাধু জেলেরা ব্যবহার করছেন নিষিদ্ধ রিং জাল, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল। এসব সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে বড় মাছের পাশাপাশি উঠে আসছে প্রচুর পরিমাণ পোনা ও অপরিপক্ক মাছ। ফলে মাছগুলো বড় হওয়ার বা বংশবৃদ্ধির আর সুযোগ পাচ্ছে না।

বাজারে মাছ কিনতে আসা আজিজুল হক বলেন, ‘নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে আমাদের কপালে আর দেশি মাছ জুটবে না। বর্ষার এ সময়টাতে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করলে মৌসুম শেষে বাজারে মাছের জোগান বাড়ত, দামও কমত।’

মাছ বিক্রেতা রফিকুল হকের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করেন না। তবে কিছু অসাধু জেলের কারণে পুরো মৎস্য সম্পদ আজ হুমকির মুখে। ছোট-বড় সব মাছ একসঙ্গে ধরে ফেলায় বাজারে মাছের আকাল দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান মাঝেমধ্যে হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। প্রজনন মৌসুমে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে দেশি মাছের সংকট আগামীতে আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম মাছের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এ সময় পোনা নিধন বন্ধ করা না গেলে শুধু মৎস্য সম্পদই নয়, বরং পুরো জলজ জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, ‘দেশি মাছ রক্ষায় আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও চলছে। দেশি মাছ আমাদের জীববৈচিত্র্যের এক অমূল্য অংশ, যা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল সরকারি অভিযান নয়, মাছের বংশবিস্তারের জন্য বর্ষার কয়েক মাস সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে ঠাকুরগাঁওয়ের নদী-নালায় দেশি মাছের সেই সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত