সংবাদ

ব্যাটারি অটোরিকশা ধ্বংস করছে গ্রামীণ অর্থনীতিও


নাসির উদ্দিন পাঠান
নাসির উদ্দিন পাঠান
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

ব্যাটারি অটোরিকশা ধ্বংস করছে গ্রামীণ অর্থনীতিও

একসময় গ্রামের সকাল শুরু হতো লাঙল, গরু, ধানের চারা আর কৃষকের ব্যস্ততায়। এখন অনেক গ্রামের চিত্র বদলে গেছে। ভোর হতে না হতেই গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছুটতে শুরু করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। একসময় যে তরুণ বা দিনমজুর ধানের জমিতে কাজ করতেন, তিনিই এখন অটোরিকশার চালক। হাতে কোদাল কিংবা কাস্তের বদলে স্টিয়ারিং; কৃষিজমির বদলে তার কর্মক্ষেত্র সড়ক।

ব্যাটারি অটোরিকশা মানুষের চলাচল সহজ করেছে—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কম খরচে যাতায়াত, গ্রামীণ যোগাযোগ এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানে এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে যানটি একদিকে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করছে, সেটিই যদি অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনের শ্রমবাজারকে ফাঁকা করে দেয়, তাহলে তার সামগ্রিক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন আমরা কীভাবে করব?

আমার সাম্প্রতিক বরগুনা সফরে এমন একটি চিত্রই চোখে পড়েছে, যা শুধু একটি জেলার নয়, বরং বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।

বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পড়ে আছে। কোথাও জমি প্রস্তুত হয়নি, কোথাও ধানের চারা রোপণ হয়নি। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। জমিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে দৈনিক মজুরি ১ হাজার টাকার ওপরে দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গ্রামের রাস্তা ধরে তাকালেই দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি অটোরিকশা। স্থানীয়দের ভাষায়—“জমিতে কাজ করার মানুষ নেই, কিন্তু রাস্তায় অটো চালানোর মানুষের অভাব নেই।”

এটি কেবল একটি পেশার পরিবর্তন নয়; এটি গ্রামীণ শ্রমবাজারের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কৃষির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জমি ও শ্রম। জমি থাকলেই ফসল হয় না; সময়মতো জমি প্রস্তুত করা, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার দেওয়া, কীটনাশক প্রয়োগ এবং ধান কাটার জন্য শ্রমিক প্রয়োজন।

কিন্তু অটোরিকশা চালানো অনেকের কাছে কৃষিশ্রমের তুলনায় আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কারণ, কৃষিকাজ মৌসুমি, শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। বিপরীতে অটোরিকশা চালালে প্রতিদিন নগদ আয় করার সুযোগ রয়েছে। ফলে কৃষিশ্রমিকের একটি অংশ কৃষি থেকে পরিবহন খাতে চলে যাচ্ছে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে বিপদ। কৃষকের জমি আছে, কিন্তু শ্রমিক নেই। শ্রমিক পাওয়া গেলেও মজুরি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। আর উৎপাদন খরচ বাড়লে কৃষকের লাভ কমছে। লাভ কমলে কৃষক পরবর্তী মৌসুমে চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এভাবে ধীরে ধীরে জমি অনাবাদি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বরগুনার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছিল—যা সে সময়কার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি।  অর্থাৎ দক্ষিণের এই উপকূলীয় জেলাতেও বোরো চাষের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় যদি দেখা যায় শ্রমিকের অভাবে জমি পড়ে থাকছে, তাহলে বিষয়টি কৃষি বিভাগের পাশাপাশি জাতীয় নীতিনির্ধারকদেরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অবশ্য বরগুনায় সব জমি অনাবাদি হওয়ার কারণ অটোরিকশা—এমন সরল সিদ্ধান্তেও যাওয়া যাবে না। সেচের পানি, লবণাক্ততা, আবহাওয়া, উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগও কৃষির বড় সমস্যা। ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে অতিজোয়ারের নোনা পানিতে বরগুনার পাথরঘাটায় ফসলের ক্ষতির খবরও এসেছে।

কিন্তু শ্রমিক সংকট ও পেশা পরিবর্তনের বিষয়টি এখন আলাদা করে তদন্ত করার সময় এসেছে।

ব্যাটারি অটোরিকশার আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো বিদ্যুৎ। ব্যাটারি চালিত তিনচাকার একটি যান প্রতিদিন কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে—এ নিয়ে গবেষণায় বিভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণাপত্রে প্রতি গাড়িতে দৈনিক প্রায় ৮–১০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেওয়া হয়েছে। একই গবেষণায় দেশে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন হলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি গবেষণাভিত্তিক অনুমান; সরকারি জাতীয় হিসাব নয়।

আরও পুরোনো বাংলাদেশি গবেষণায় স্থানীয় শহরের বিদ্যুৎ চাহিদার ওপর ব্যাটারি অটোরিকশার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পাওয়া গেছে। রাজশাহী শহর নিয়ে একটি গবেষণায় ব্যাটারি অটোরিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহার মোট শহুরে লোডের প্রায় ৪.৩ শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়েছিল। অন্য একটি গবেষণায় রাজশাহী শহরে এই হার ৭–৯ শতাংশ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “দেশের মোট বিদ্যুতের ৫ শতাংশ ব্যাটারি অটোরিকশা খেয়ে ফেলছে”—এমন নির্দিষ্ট দাবি সরাসরি সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, সারা দেশে ব্যাটারি অটোরিকশার সঠিক সংখ্যা ও তাদের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি জরিপ এখন জরুরি।

কারণ, বিদ্যুৎ শুধু একটি যান চালানোর জন্য নয়। এই বিদ্যুৎ দিয়ে সেচ পাম্প চলতে পারে, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের কোল্ডস্টোরেজ চলতে পারে, ক্ষুদ্র শিল্প চলতে পারে, গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে পারে। প্রশ্নটা তাই শুধু—“অটো কত বিদ্যুৎ খায়?”—এটা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত—“এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য কোথায়?”

একজন কৃষিশ্রমিক যখন জমিতে কাজ করেন, তখন তার শ্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক চক্র। কৃষকের জমিতে কাজ হয়, ধান উৎপাদিত হয়, ধান মিলে যায়, চাল বাজারে আসে, পরিবহন হয়, ব্যবসা হয়। অর্থাৎ একজন শ্রমিকের কৃষিকাজ শুধু তার নিজের আয় নয়; এর সঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে, একজন অটোরিকশা চালকও অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। কিন্তু যদি একই গ্রামের ১০০ জন শ্রমিকের বড় অংশ কৃষিকাজ ছেড়ে অটোরিকশা চালাতে শুরু করেন, তখন স্থানীয় অর্থনীতির উৎপাদন কাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। রাস্তা দিয়ে ১০০টি অটোরিকশা চলবে, কিন্তু সেই গ্রামের জমিতে ধান ফলবে না—এমন অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। কারণ মানুষ পরিবহনে আয় করতে পারে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প তৈরি করতে পারে না।

কৃষকের অভিযোগ—শ্রমিক পাওয়া গেলে মজুরি অনেক বেশি। একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেলে ছোট ও মাঝারি কৃষকের ওপর চাপ বাড়ে। এক একর জমিতে কয়েক দফা শ্রমিক লাগলে শুধু শ্রমের পেছনেই বড় অঙ্কের টাকা চলে যায়। এর সঙ্গে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত ও পরিবহন খরচ যোগ হয়। ফলে কৃষক হিসাব করেন—ধান চাষ করে সব খরচ বাদ দিয়ে কত থাকবে? যদি উত্তর হয় “লাভ খুব কম”, তাহলে কৃষক চাষ কমাবেন। আর যখন অনেক কৃষক একই সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন স্থানীয় উৎপাদন কমবে।

তারপর কী হবে? চাল আমদানি বাড়বে। আমরা কি উৎপাদন ছেড়ে আমদানিনির্ভর হচ্ছি? চালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আমদানি পরিসংখ্যান বিষয়টি নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়।

বাসসের খাদ্য অধিদপ্তরভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন চাল আমদানি হয়েছে। একই সময়ে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন।

এখানে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। চাল আমদানির পেছনে শুধু কৃষিশ্রমিক সংকট বা অটোরিকশাকে দায়ী করা যাবে না। বাজারদর, মজুত, উৎপাদন, সরকারি খাদ্যনীতি, আন্তর্জাতিক বাজার এবং খাদ্যনিরাপত্তার কৌশল—সবকিছুর প্রভাব রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটি থেকেই যায়—যদি আমাদের কৃষিজমি থাকে, কৃষক থাকে, কিন্তু কৃষিশ্রমিক না থাকে, তাহলে উৎপাদনের জায়গায় আমদানির ওপর নির্ভরতা কি ধীরে ধীরে বাড়বে না?

চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এমন সময়ে দেশের কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকা কিংবা শ্রমিকের অভাবে চাষ কমে যাওয়া কোনোভাবেই স্বস্তির বিষয় নয়।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার—এই কলামের উদ্দেশ্য ব্যাটারি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা নয়। কারণ, এটি এখন লাখ লাখ মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। গ্রাম ও মফস্বলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। 

সমস্যা হচ্ছে অপরিকল্পিত বিস্তার। যেখানে কৃষিশ্রমিকের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখানে শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে—তা নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। কোথায় কত অটোরিকশা চলছে, কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, কোথা থেকে চার্জ হচ্ছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আলাদা মিটার আছে কি না—এসবেরও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তথ্য নেই। সরকার চাইলে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রথমত, সারা দেশে ব্যাটারি অটোরিকশার নিবন্ধন ও প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোন জেলা বা উপজেলায় কত বিদ্যুৎ এসব যানবাহনের চার্জে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার হিসাব করতে হবে। তৃতীয়ত, কৃষি মৌসুমে শ্রমিক সংকটের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ গবেষণা প্রয়োজন।

চতুর্থত, কৃষিশ্রমিককে কৃষিতে ধরে রাখতে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উৎপাদনভিত্তিক মজুরি, কৃষি শ্রমিকের প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, যেখানে কৃষিশ্রমিকের ভয়াবহ সংকট রয়েছে, সেখানে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে ভর্তুকি বা সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একজন কৃষক যেন একজন শ্রমিকের ওপর নির্ভর না করে মেশিন দিয়ে জমি প্রস্তুত, রোপণ ও ধান কাটতে পারেন—সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্যাটারি অটোরিকশা আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতির শত্রু—এমন সরল সিদ্ধান্ত হয়তো ঠিক নয়। কিন্তু অপরিকল্পিত অটোরিকশা বিস্তার যদি কৃষি শ্রমবাজারকে এমনভাবে বদলে দেয় যে কৃষক জমিতে শ্রমিক না পেয়ে চাষ ছেড়ে দেন, তাহলে সেটি আর শুধু পরিবহন খাতের বিষয় থাকে না; এটি খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

আজ বরগুনার কোনো কৃষক যদি বলেন—“জমি আছে, কিন্তু চাষ করার মানুষ নেই”—তাহলে সেই কথাকে শুধু একজন কৃষকের ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ, আজ যদি কৃষিশ্রমিক অটোরিকশার চালক হয়ে যায়, কাল যদি কৃষক জমি চাষ না করেন, পরশু যদি বাজারে চালের ঘাটতি তৈরি হয়—তখন সেই ঘাটতি পূরণ করতে আমাদের আরও চাল আমদানি করতে হবে।

অর্থাৎ যে গ্রাম একদিন দেশের খাদ্য উৎপাদন করত, সেই গ্রাম যদি একসময় শুধু যাত্রী পরিবহন করে—তাহলে প্রশ্ন উঠবেই: আমরা কি গ্রামীণ অর্থনীতিকে উৎপাদনমুখী রাখছি, নাকি ধীরে ধীরে শুধু পরিবহননির্ভর করে ফেলছি?

ব্যাটারি অটোরিকশা তাই শুধু বিদ্যুৎ খরচের হিসাব নয়। এটি শ্রমের হিসাব। এটি কৃষকের হিসাব। এটি জমির হিসাব। এবং শেষ পর্যন্ত—এটি বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার হিসাব।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী, ঢাকা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


ব্যাটারি অটোরিকশা ধ্বংস করছে গ্রামীণ অর্থনীতিও

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একসময় গ্রামের সকাল শুরু হতো লাঙল, গরু, ধানের চারা আর কৃষকের ব্যস্ততায়। এখন অনেক গ্রামের চিত্র বদলে গেছে। ভোর হতে না হতেই গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছুটতে শুরু করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। একসময় যে তরুণ বা দিনমজুর ধানের জমিতে কাজ করতেন, তিনিই এখন অটোরিকশার চালক। হাতে কোদাল কিংবা কাস্তের বদলে স্টিয়ারিং; কৃষিজমির বদলে তার কর্মক্ষেত্র সড়ক।

ব্যাটারি অটোরিকশা মানুষের চলাচল সহজ করেছে—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কম খরচে যাতায়াত, গ্রামীণ যোগাযোগ এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানে এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে যানটি একদিকে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করছে, সেটিই যদি অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনের শ্রমবাজারকে ফাঁকা করে দেয়, তাহলে তার সামগ্রিক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন আমরা কীভাবে করব?

আমার সাম্প্রতিক বরগুনা সফরে এমন একটি চিত্রই চোখে পড়েছে, যা শুধু একটি জেলার নয়, বরং বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।

বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পড়ে আছে। কোথাও জমি প্রস্তুত হয়নি, কোথাও ধানের চারা রোপণ হয়নি। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। জমিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে দৈনিক মজুরি ১ হাজার টাকার ওপরে দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গ্রামের রাস্তা ধরে তাকালেই দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি অটোরিকশা। স্থানীয়দের ভাষায়—“জমিতে কাজ করার মানুষ নেই, কিন্তু রাস্তায় অটো চালানোর মানুষের অভাব নেই।”

এটি কেবল একটি পেশার পরিবর্তন নয়; এটি গ্রামীণ শ্রমবাজারের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কৃষির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জমি ও শ্রম। জমি থাকলেই ফসল হয় না; সময়মতো জমি প্রস্তুত করা, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার দেওয়া, কীটনাশক প্রয়োগ এবং ধান কাটার জন্য শ্রমিক প্রয়োজন।

কিন্তু অটোরিকশা চালানো অনেকের কাছে কৃষিশ্রমের তুলনায় আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কারণ, কৃষিকাজ মৌসুমি, শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। বিপরীতে অটোরিকশা চালালে প্রতিদিন নগদ আয় করার সুযোগ রয়েছে। ফলে কৃষিশ্রমিকের একটি অংশ কৃষি থেকে পরিবহন খাতে চলে যাচ্ছে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে বিপদ। কৃষকের জমি আছে, কিন্তু শ্রমিক নেই। শ্রমিক পাওয়া গেলেও মজুরি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। আর উৎপাদন খরচ বাড়লে কৃষকের লাভ কমছে। লাভ কমলে কৃষক পরবর্তী মৌসুমে চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এভাবে ধীরে ধীরে জমি অনাবাদি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বরগুনার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছিল—যা সে সময়কার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি।  অর্থাৎ দক্ষিণের এই উপকূলীয় জেলাতেও বোরো চাষের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় যদি দেখা যায় শ্রমিকের অভাবে জমি পড়ে থাকছে, তাহলে বিষয়টি কৃষি বিভাগের পাশাপাশি জাতীয় নীতিনির্ধারকদেরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অবশ্য বরগুনায় সব জমি অনাবাদি হওয়ার কারণ অটোরিকশা—এমন সরল সিদ্ধান্তেও যাওয়া যাবে না। সেচের পানি, লবণাক্ততা, আবহাওয়া, উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগও কৃষির বড় সমস্যা। ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে অতিজোয়ারের নোনা পানিতে বরগুনার পাথরঘাটায় ফসলের ক্ষতির খবরও এসেছে।

কিন্তু শ্রমিক সংকট ও পেশা পরিবর্তনের বিষয়টি এখন আলাদা করে তদন্ত করার সময় এসেছে।

ব্যাটারি অটোরিকশার আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো বিদ্যুৎ। ব্যাটারি চালিত তিনচাকার একটি যান প্রতিদিন কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে—এ নিয়ে গবেষণায় বিভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণাপত্রে প্রতি গাড়িতে দৈনিক প্রায় ৮–১০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেওয়া হয়েছে। একই গবেষণায় দেশে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন হলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি গবেষণাভিত্তিক অনুমান; সরকারি জাতীয় হিসাব নয়।

আরও পুরোনো বাংলাদেশি গবেষণায় স্থানীয় শহরের বিদ্যুৎ চাহিদার ওপর ব্যাটারি অটোরিকশার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পাওয়া গেছে। রাজশাহী শহর নিয়ে একটি গবেষণায় ব্যাটারি অটোরিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহার মোট শহুরে লোডের প্রায় ৪.৩ শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়েছিল। অন্য একটি গবেষণায় রাজশাহী শহরে এই হার ৭–৯ শতাংশ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “দেশের মোট বিদ্যুতের ৫ শতাংশ ব্যাটারি অটোরিকশা খেয়ে ফেলছে”—এমন নির্দিষ্ট দাবি সরাসরি সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, সারা দেশে ব্যাটারি অটোরিকশার সঠিক সংখ্যা ও তাদের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি জরিপ এখন জরুরি।

কারণ, বিদ্যুৎ শুধু একটি যান চালানোর জন্য নয়। এই বিদ্যুৎ দিয়ে সেচ পাম্প চলতে পারে, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের কোল্ডস্টোরেজ চলতে পারে, ক্ষুদ্র শিল্প চলতে পারে, গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে পারে। প্রশ্নটা তাই শুধু—“অটো কত বিদ্যুৎ খায়?”—এটা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত—“এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য কোথায়?”

একজন কৃষিশ্রমিক যখন জমিতে কাজ করেন, তখন তার শ্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক চক্র। কৃষকের জমিতে কাজ হয়, ধান উৎপাদিত হয়, ধান মিলে যায়, চাল বাজারে আসে, পরিবহন হয়, ব্যবসা হয়। অর্থাৎ একজন শ্রমিকের কৃষিকাজ শুধু তার নিজের আয় নয়; এর সঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে, একজন অটোরিকশা চালকও অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। কিন্তু যদি একই গ্রামের ১০০ জন শ্রমিকের বড় অংশ কৃষিকাজ ছেড়ে অটোরিকশা চালাতে শুরু করেন, তখন স্থানীয় অর্থনীতির উৎপাদন কাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। রাস্তা দিয়ে ১০০টি অটোরিকশা চলবে, কিন্তু সেই গ্রামের জমিতে ধান ফলবে না—এমন অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। কারণ মানুষ পরিবহনে আয় করতে পারে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প তৈরি করতে পারে না।

কৃষকের অভিযোগ—শ্রমিক পাওয়া গেলে মজুরি অনেক বেশি। একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেলে ছোট ও মাঝারি কৃষকের ওপর চাপ বাড়ে। এক একর জমিতে কয়েক দফা শ্রমিক লাগলে শুধু শ্রমের পেছনেই বড় অঙ্কের টাকা চলে যায়। এর সঙ্গে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত ও পরিবহন খরচ যোগ হয়। ফলে কৃষক হিসাব করেন—ধান চাষ করে সব খরচ বাদ দিয়ে কত থাকবে? যদি উত্তর হয় “লাভ খুব কম”, তাহলে কৃষক চাষ কমাবেন। আর যখন অনেক কৃষক একই সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন স্থানীয় উৎপাদন কমবে।

তারপর কী হবে? চাল আমদানি বাড়বে। আমরা কি উৎপাদন ছেড়ে আমদানিনির্ভর হচ্ছি? চালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আমদানি পরিসংখ্যান বিষয়টি নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়।

বাসসের খাদ্য অধিদপ্তরভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন চাল আমদানি হয়েছে। একই সময়ে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন।

এখানে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। চাল আমদানির পেছনে শুধু কৃষিশ্রমিক সংকট বা অটোরিকশাকে দায়ী করা যাবে না। বাজারদর, মজুত, উৎপাদন, সরকারি খাদ্যনীতি, আন্তর্জাতিক বাজার এবং খাদ্যনিরাপত্তার কৌশল—সবকিছুর প্রভাব রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটি থেকেই যায়—যদি আমাদের কৃষিজমি থাকে, কৃষক থাকে, কিন্তু কৃষিশ্রমিক না থাকে, তাহলে উৎপাদনের জায়গায় আমদানির ওপর নির্ভরতা কি ধীরে ধীরে বাড়বে না?

চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এমন সময়ে দেশের কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকা কিংবা শ্রমিকের অভাবে চাষ কমে যাওয়া কোনোভাবেই স্বস্তির বিষয় নয়।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার—এই কলামের উদ্দেশ্য ব্যাটারি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা নয়। কারণ, এটি এখন লাখ লাখ মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। গ্রাম ও মফস্বলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। 

সমস্যা হচ্ছে অপরিকল্পিত বিস্তার। যেখানে কৃষিশ্রমিকের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখানে শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে—তা নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। কোথায় কত অটোরিকশা চলছে, কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, কোথা থেকে চার্জ হচ্ছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আলাদা মিটার আছে কি না—এসবেরও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তথ্য নেই। সরকার চাইলে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রথমত, সারা দেশে ব্যাটারি অটোরিকশার নিবন্ধন ও প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোন জেলা বা উপজেলায় কত বিদ্যুৎ এসব যানবাহনের চার্জে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার হিসাব করতে হবে। তৃতীয়ত, কৃষি মৌসুমে শ্রমিক সংকটের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ গবেষণা প্রয়োজন।

চতুর্থত, কৃষিশ্রমিককে কৃষিতে ধরে রাখতে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উৎপাদনভিত্তিক মজুরি, কৃষি শ্রমিকের প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, যেখানে কৃষিশ্রমিকের ভয়াবহ সংকট রয়েছে, সেখানে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে ভর্তুকি বা সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একজন কৃষক যেন একজন শ্রমিকের ওপর নির্ভর না করে মেশিন দিয়ে জমি প্রস্তুত, রোপণ ও ধান কাটতে পারেন—সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্যাটারি অটোরিকশা আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতির শত্রু—এমন সরল সিদ্ধান্ত হয়তো ঠিক নয়। কিন্তু অপরিকল্পিত অটোরিকশা বিস্তার যদি কৃষি শ্রমবাজারকে এমনভাবে বদলে দেয় যে কৃষক জমিতে শ্রমিক না পেয়ে চাষ ছেড়ে দেন, তাহলে সেটি আর শুধু পরিবহন খাতের বিষয় থাকে না; এটি খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

আজ বরগুনার কোনো কৃষক যদি বলেন—“জমি আছে, কিন্তু চাষ করার মানুষ নেই”—তাহলে সেই কথাকে শুধু একজন কৃষকের ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ, আজ যদি কৃষিশ্রমিক অটোরিকশার চালক হয়ে যায়, কাল যদি কৃষক জমি চাষ না করেন, পরশু যদি বাজারে চালের ঘাটতি তৈরি হয়—তখন সেই ঘাটতি পূরণ করতে আমাদের আরও চাল আমদানি করতে হবে।

অর্থাৎ যে গ্রাম একদিন দেশের খাদ্য উৎপাদন করত, সেই গ্রাম যদি একসময় শুধু যাত্রী পরিবহন করে—তাহলে প্রশ্ন উঠবেই: আমরা কি গ্রামীণ অর্থনীতিকে উৎপাদনমুখী রাখছি, নাকি ধীরে ধীরে শুধু পরিবহননির্ভর করে ফেলছি?

ব্যাটারি অটোরিকশা তাই শুধু বিদ্যুৎ খরচের হিসাব নয়। এটি শ্রমের হিসাব। এটি কৃষকের হিসাব। এটি জমির হিসাব। এবং শেষ পর্যন্ত—এটি বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার হিসাব।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী, ঢাকা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত