সাতক্ষীরা জেলায় গত মে থেকে জুলাই - এই তিন মাসে অন্তত ১৩৬ জনের অপমৃত্যু হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে মামলা হয়েছে ৬৮৪টি। মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন’ (এমএসএফ) ও ‘উত্তরণ’-এর ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের (ডিএইচআরএনএস) এক সভায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরার ম্যানগ্রোভ সভা কক্ষে আয়োজিত এই অ্যাডভোকেসি সভায় প্রতিবেদন পেশ করেন এমএসএফ-এর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মুনিরুদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।
সাতক্ষীরা জিআরও অফিসের তথ্যানুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে জেলার আটটি থানায় ৬৮৪টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের তিন মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৩২টি। অর্থাৎ গত তিন মাসে জেলায় অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সবচেয়ে বেশি ২৫১টি মামলা হয়েছে। এছাড়া নারী নির্যাতনের ৫০টি, ধর্ষণের ২১টি এবং খুনের ৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে জেলায় ১৩৬ জনের অপমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মে মাসে ৪৯ জন, জুনে ৪৪ জন এবং জুলাইয়ে ৪৩ জন প্রাণ হারান। এই সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৬৫টি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ হিসেবে বজ্রপাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিতে ডুবা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং সাপের কামড়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন মাসে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। এছাড়া সুন্দরবন অঞ্চলে মাছ ধরার সময় বনদস্যুদের হাতে মুক্তিপণের দাবিতে ৩২ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন।
সভায় বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগজনক। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট তৈরি এবং প্রতিবাদী সামাজিক অবস্থান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন