সংবাদ

এক্সিলারেট চালু হলেও কাটেনি সংকট, বেড়েছে লোডশেডিং


ফয়েজ আহমেদ তুষার
ফয়েজ আহমেদ তুষার
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

এক্সিলারেট চালু হলেও কাটেনি সংকট, বেড়েছে লোডশেডিং
ছবি : সংগৃহীত

তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল। নতুন একটি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত হওয়ায় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এতে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট কাটেনি। উল্টো কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। ফলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুতে স্বস্তি ফেরেনি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৩১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ করে সরবরাহ হয়েছে ৬৮ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সন্ধ্যায়ও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল প্রায় ১৪৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে এক্সিলারেট থেকে প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। সন্ধ্যার পর তা আরও বাড়ানো হয়েছে। রাতে সরবরাহ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একবারে পুরো সক্ষমতায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নির্ভর করছে টার্মিনালের কারিগরি পরিস্থিতি ও মজুতের ওপর।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ক্ষতির পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কমে যায়। দীর্ঘ সময় টার্মিনাল বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সংকট তীব্র হয়।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার মেরামতের পর পুরোনো মজুত এলএনজি থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। দিনে ৯ থেকে ১০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ চললেও নতুন কার্গো না আসায় মজুত দ্রুত কমে যায়। শেষ পর্যন্ত গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো আসার পর শনিবার আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর মাঝে সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত সীমিত আকারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

শনিবার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছে। সার কারখানায় গেছে ২১ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্পসহ অন্যান্য খাতে গ্যাসের ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।

এদিকে, কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। পাওয়ারগ্রিডের তথ্য বলছে, বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সন্ধ্যার আগেও ঘাটতি ছিল প্রায় এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট।

পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট। এর এক ঘণ্টা আগে বিকেল ৪টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট।

এর আগে বিকেল ৩টায় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট। দিনের শুরুতে ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট। দুপুর ১টায় ছিল ৭৮৬ মেগাওয়াট।

রাতেও বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল বেশি। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, "গ্যাস মোটামুটি পাওয়া গেলেও কয়লা থেকে বিদ্যুৎ কম আসছে। আদানির কাছ থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া দিনের বেলায় পটুয়াখালীর নরিনকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায়। সন্ধ্যায় নরিনকো ও মাতারবাড়ী থেকে সরবরাহ বেড়েছে।"

বিপিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বলা হয়েছে। আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় অংশে আদানির সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।

এ ছাড়া, শনিবার পায়রা থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার তাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) সূত্র জানায়, তাদের এলাকায় চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


এক্সিলারেট চালু হলেও কাটেনি সংকট, বেড়েছে লোডশেডিং

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল। নতুন একটি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত হওয়ায় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এতে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট কাটেনি। উল্টো কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। ফলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুতে স্বস্তি ফেরেনি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৩১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ করে সরবরাহ হয়েছে ৬৮ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সন্ধ্যায়ও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল প্রায় ১৪৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে এক্সিলারেট থেকে প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। সন্ধ্যার পর তা আরও বাড়ানো হয়েছে। রাতে সরবরাহ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একবারে পুরো সক্ষমতায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নির্ভর করছে টার্মিনালের কারিগরি পরিস্থিতি ও মজুতের ওপর।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ক্ষতির পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কমে যায়। দীর্ঘ সময় টার্মিনাল বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সংকট তীব্র হয়।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার মেরামতের পর পুরোনো মজুত এলএনজি থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। দিনে ৯ থেকে ১০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ চললেও নতুন কার্গো না আসায় মজুত দ্রুত কমে যায়। শেষ পর্যন্ত গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো আসার পর শনিবার আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর মাঝে সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত সীমিত আকারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

শনিবার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছে। সার কারখানায় গেছে ২১ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্পসহ অন্যান্য খাতে গ্যাসের ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।

এদিকে, কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। পাওয়ারগ্রিডের তথ্য বলছে, বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সন্ধ্যার আগেও ঘাটতি ছিল প্রায় এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট।

পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট। এর এক ঘণ্টা আগে বিকেল ৪টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট।

এর আগে বিকেল ৩টায় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট। দিনের শুরুতে ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট। দুপুর ১টায় ছিল ৭৮৬ মেগাওয়াট।

রাতেও বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল বেশি। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, "গ্যাস মোটামুটি পাওয়া গেলেও কয়লা থেকে বিদ্যুৎ কম আসছে। আদানির কাছ থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া দিনের বেলায় পটুয়াখালীর নরিনকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায়। সন্ধ্যায় নরিনকো ও মাতারবাড়ী থেকে সরবরাহ বেড়েছে।"

বিপিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বলা হয়েছে। আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় অংশে আদানির সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।

এ ছাড়া, শনিবার পায়রা থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার তাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) সূত্র জানায়, তাদের এলাকায় চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত