সাংবাদিকতা জীবনে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট আর অনিয়মের কথা তুলে ধরতেন দেবাশীষ দত্ত। তার লেখনীতে অনেক অসহায় মানুষ খুঁজে পেয়েছে বাঁচার অবলম্বন। অথচ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে দেবাশীষের করুণ মৃত্যুর পর তার নিজের পরিবারই এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মা আর একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন - সেই উত্তর জানা নেই কারও।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, শ্বশুর ও শিশুসন্তান অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেবাশীষের পরিবারটি এখন অভিভাবকহীন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় সপরিবার থাকতেন। তার আদি বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হলেও সেখানে তাদের নিজস্ব কোনো জমি বা ভিটে নেই। প্রায় ১৩ বছর আগে সর্বস্ব বিক্রি করে দিয়ে শহরে চলে আসেন তারা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন দেবাশীষ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকায় কাজ করেছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত ও মা স্বপ্না দত্ত দুজনেই হৃদরোগে ভুগছেন। প্রতি মাসে তাদের ওষুধের জন্য লাগে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এর ওপর রয়েছে প্রতি মাসের ঘর ভাড়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘আমার সংসারে দেবাশীষই ছিল মূলধন। এখন আমরা কোথায় যাব, কী খাব - কিছুই জানি না। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। সরকারের কাছে আবেদন, আমার নাতনিকে নিয়ে যেন আমরা কোনোমতে বেঁচে থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা করুন।’
শোকে বাকরুদ্ধ মা স্বপ্না দত্ত বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ‘আমাদের একটাই কলিজার সন্তান ছিল, সে-ও চলে গেল। বৃদ্ধ মা-বাবাকে এখন কে দেখবে?’
দেবাশীষের সহকর্মী ও কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর এবং স্টার নিউজের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম এই অসহায় পরিবারের জন্য সরকার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, দেবাশীষের পরিবারটি এখন আক্ষরিক অর্থেই বাস্তুহারা। শিশুটির পড়াশোনা ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন