অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়, দুই পেসারের দুর্দান্ত বোলিং, আর সবশেষে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ উন্নতি–অস্ট্রেলিয়া সফরটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে নানা কারণে। দুই টেস্টের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ হলেও বাংলাদেশের অর্জনের খাতায় যোগ হয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড।
সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয়টি এসেছিল ২০১৭ সালে ঢাকায়।
ডারউইনের জয়ে বড় অবদান রাখেন পেসার হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি এটি। একই সঙ্গে এটি টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের তৃতীয় সেরা ইনিংস বোলিং।
ব্যাট হাতেও ডারউইনে উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের সুবাদে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে তারা পায় ২২৮ রানের লিড। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
সেই জয়ের প্রভাব পড়ে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও। সিরিজ শুরুর আগে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে, যা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৮। এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল সপ্তম।
র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও এগিয়েছেন বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার। ডারউইনে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ২০তম স্থানে উঠে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান অর্জন করেন। হাসান মাহমুদ ২৬ ধাপ এগিয়ে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ৩৮তম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪তম স্থানে উঠে আসেন।
তবে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাকেতে প্রথম ইনিংসে ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অর্থাৎ, একটি টেস্টে দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়ে তারা। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জেতে ইনিংস ও ৫১ রানে।
ম্যাকেতে ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্যেও ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা টেস্ট বোলিং এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট।
সব মিলিয়ে সিরিজটি ১–১ সমতায় শেষ হলেও বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়, হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক বোলিং, শোরিফুলের ৭ উইকেট এবং আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নবম থেকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসা–সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছে।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়, দুই পেসারের দুর্দান্ত বোলিং, আর সবশেষে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ উন্নতি–অস্ট্রেলিয়া সফরটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে নানা কারণে। দুই টেস্টের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ হলেও বাংলাদেশের অর্জনের খাতায় যোগ হয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড।
সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয়টি এসেছিল ২০১৭ সালে ঢাকায়।
ডারউইনের জয়ে বড় অবদান রাখেন পেসার হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি এটি। একই সঙ্গে এটি টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের তৃতীয় সেরা ইনিংস বোলিং।
ব্যাট হাতেও ডারউইনে উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের সুবাদে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে তারা পায় ২২৮ রানের লিড। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
সেই জয়ের প্রভাব পড়ে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও। সিরিজ শুরুর আগে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে, যা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৮। এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল সপ্তম।
র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও এগিয়েছেন বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার। ডারউইনে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ২০তম স্থানে উঠে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান অর্জন করেন। হাসান মাহমুদ ২৬ ধাপ এগিয়ে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ৩৮তম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪তম স্থানে উঠে আসেন।
তবে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাকেতে প্রথম ইনিংসে ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অর্থাৎ, একটি টেস্টে দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়ে তারা। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জেতে ইনিংস ও ৫১ রানে।
ম্যাকেতে ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্যেও ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা টেস্ট বোলিং এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট।
সব মিলিয়ে সিরিজটি ১–১ সমতায় শেষ হলেও বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়, হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক বোলিং, শোরিফুলের ৭ উইকেট এবং আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নবম থেকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসা–সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন