সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন।
বেলা ১১টার দিকে গুলশান থানা পুলিশ বিদিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
বিদিশার পক্ষে তার আইনজীবী আতিকুর রহমান আপিলের শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিন চান। তিনি বলেন, ‘মামলাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল। পরে তা ভ্যাকেট হয়ে আসে। বিদিশা সিদ্দিকের অনুপস্থিতিতে বিচার হয় এবং রায় আসে। আপিলের শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি।’
বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘২৫ বছর মামলায় তিনি কোর্টকে অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। অবগত হয়েও আদালতে আসেননি। তার জামিনের বিরোধিতা করে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা করছি।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলামও জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় ওই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামে এক ব্যবসায়ী। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন।
পরবর্তী সময়ে বিদিশা বাদীকে তার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী সেই টাকা পরিশোধ করেন এবং বায়নানামা সম্পাদিত হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা করেননি বিদিশা।
পরে তিনি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। বাদী অভিযোগ করেন, টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে না দিয়ে বিদিশা তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
গত ২০ মে আদালত তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন।
বেলা ১১টার দিকে গুলশান থানা পুলিশ বিদিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
বিদিশার পক্ষে তার আইনজীবী আতিকুর রহমান আপিলের শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিন চান। তিনি বলেন, ‘মামলাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল। পরে তা ভ্যাকেট হয়ে আসে। বিদিশা সিদ্দিকের অনুপস্থিতিতে বিচার হয় এবং রায় আসে। আপিলের শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি।’
বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘২৫ বছর মামলায় তিনি কোর্টকে অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। অবগত হয়েও আদালতে আসেননি। তার জামিনের বিরোধিতা করে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা করছি।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলামও জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় ওই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামে এক ব্যবসায়ী। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন।
পরবর্তী সময়ে বিদিশা বাদীকে তার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী সেই টাকা পরিশোধ করেন এবং বায়নানামা সম্পাদিত হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা করেননি বিদিশা।
পরে তিনি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। বাদী অভিযোগ করেন, টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে না দিয়ে বিদিশা তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
গত ২০ মে আদালত তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

আপনার মতামত লিখুন