হিমালয়কন্যা নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালের দিকে নেপালের ভোতেকোশি, ত্রিশুলি ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী জনপদ তলিয়ে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে শত শত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহে বরফ ও পাথরের ধসের কারণে তৈরি হওয়া পানি জমে এ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
নেপালের সরকারি তথ্যমতে, বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৯১ জনই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক।
উদ্ধারকাজে গতি আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তার কথা জানিয়ে নেপাল সরকারের মুখপাত্র সাসমিত পোখারেল বলেন, "উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারত ও চীন—দুই দেশের কাছেই সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।"
নিখোঁজদের মধ্যে বড় একটি অংশ হিন্দু ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান তিব্বতের কৈলাস পর্বতে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে নিশ্চিত করে জানান, "বন্যায় অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।"
দুর্যোগের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, "নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দলগুলো ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।"
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের চীনা অংশেও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক দেশ ও সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
দুর্গত এলাকায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় খাড়া পাহাড়ি উপত্যকা ও নুয়াকোট জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রবল স্রোতের পর ঘরবাড়ি দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত কাদায় ঢেকে গেছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কাদার নিচে অনেক যানবাহন চাপা পড়ে আছে এবং বেশ কিছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়েছে। একই এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিমবাহ গলে যাওয়া ও হঠাৎ নদী আটকে প্রবল বেগে পানি নেমে আসাই এই ধ্বংসলীলার মূল কারণ।

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
হিমালয়কন্যা নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালের দিকে নেপালের ভোতেকোশি, ত্রিশুলি ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী জনপদ তলিয়ে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে শত শত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহে বরফ ও পাথরের ধসের কারণে তৈরি হওয়া পানি জমে এ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
নেপালের সরকারি তথ্যমতে, বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৯১ জনই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক।
উদ্ধারকাজে গতি আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তার কথা জানিয়ে নেপাল সরকারের মুখপাত্র সাসমিত পোখারেল বলেন, "উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারত ও চীন—দুই দেশের কাছেই সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।"
নিখোঁজদের মধ্যে বড় একটি অংশ হিন্দু ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান তিব্বতের কৈলাস পর্বতে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে নিশ্চিত করে জানান, "বন্যায় অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।"
দুর্যোগের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, "নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দলগুলো ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।"
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের চীনা অংশেও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক দেশ ও সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
দুর্গত এলাকায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় খাড়া পাহাড়ি উপত্যকা ও নুয়াকোট জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রবল স্রোতের পর ঘরবাড়ি দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত কাদায় ঢেকে গেছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কাদার নিচে অনেক যানবাহন চাপা পড়ে আছে এবং বেশ কিছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়েছে। একই এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিমবাহ গলে যাওয়া ও হঠাৎ নদী আটকে প্রবল বেগে পানি নেমে আসাই এই ধ্বংসলীলার মূল কারণ।

আপনার মতামত লিখুন