সংবাদ

বরিশালে তিন মাস বন্ধ কারাখানা, শ্রমিকদের ভুখা মিছিল


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

বরিশালে তিন মাস বন্ধ কারাখানা, শ্রমিকদের ভুখা মিছিল
বরিশালের অলিম্পিক ফাইবার এংকর সিমেন্ট কোম্পানি

বরিশালে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে আন্দোলনের মুখে টানা ২ মাস ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের অলিম্পিক ফাইবার এংকর সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

গত ১১ জুন থেকে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা। প্রথমে ভুখা মিছিল, পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ রূপাতলীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, অলিম্পিক এংকর ফাইবার সিমেন্ট কোম্পানির মেইন গেটে তালা ঝুলছে এবং গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ব্যানার টানানো রয়েছে।

বরিশাল এংকর সিমেন্ট লিমিটেডের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, বেতন, ওভারটাইম, বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা আন্দোলন করেন। কারখানায় সর্বমোট ৪১৮ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এর মধ্যে ৬২ জন ছিলেন নিরাপত্তা প্রহরী।

আন্দোলনের চাপে জুন মাসের বকেয়া বেতন ১৬ জুলাই পরিশোধ করা হলেও ওভারটাইমসহ অন্যান্য দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিক নেতার অভিযোগ, দুই মাসের মধ্যে ওভারটাইম এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের ৬ মাসের পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও কোম্পানি তা করেনি। তবে বাকি বকেয়া বেতন ওভারটাইম আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে।

এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিল্প ও কলকারখানা বিভাগের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানেই আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন শ্রমিকরা।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অলিম্পিক ফাইবার সিমেন্ট কোম্পানি স্বল্প পরিসরে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করে পুনরায় চালু করবে। এজন্য কোম্পানি একটি ফরমেট তৈরি করেছে। যারা চাকরি করতে ইচ্ছুক তাদের ফরমে ‘হ্যাঁ’ লিখতে হবে, আর অনিচ্ছুকদের ‘না’ লিখে ফরম জমা দিতে হবে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, যাদের ছাঁটাই করা হবে তাদের তিন মাসের বেতন একসাথে দেওয়ার কথা থাকলেও কোম্পানি কিস্তিতে দেওয়ার চিঠি দেবে। আর যারা চাকরিতে থাকতে চায় তাদের বর্তমান বকেয়া বেতনও দেওয়া লাগছে না কারণ চালু হওয়ার পরে তাদেরকে বকেয়া দেওয়ার কথা জানান। 

কবে নাগাদ কারখানা চালু হবে সে বিষয়ে শ্রমিক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাবেল জানান, বর্তমানে কারখানার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন। ওজোপাডিকো নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে, অলিম্পিক সিমেন্ট কোম্পানির কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৫ কোটি ৭৫ লাখ ৮ টাকা পাওনা। এই বিল ৩০ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করা গেলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কারখানা চালু হতে পারে।

তিনি আরও জানান, যাদের ছাঁটাই করা হয়েছে তাদের বকেয়া বেতন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে পরিশোধের কথা হবে।

এ বিষয়ে কোম্পানির দায়িত্বে থাকা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। অফিস সূত্রে জানা গেছে, কবে নাগাদ এংকর সিমেন্ট চালু হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, এংকর সিমেন্ট কোম্পানি ও শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে কারখানা কবে চালু হবে সেটি সম্পূর্ণ কোম্পানির বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


বরিশালে তিন মাস বন্ধ কারাখানা, শ্রমিকদের ভুখা মিছিল

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বরিশালে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে আন্দোলনের মুখে টানা ২ মাস ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের অলিম্পিক ফাইবার এংকর সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

গত ১১ জুন থেকে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা। প্রথমে ভুখা মিছিল, পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ রূপাতলীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, অলিম্পিক এংকর ফাইবার সিমেন্ট কোম্পানির মেইন গেটে তালা ঝুলছে এবং গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ব্যানার টানানো রয়েছে।

বরিশাল এংকর সিমেন্ট লিমিটেডের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, বেতন, ওভারটাইম, বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা আন্দোলন করেন। কারখানায় সর্বমোট ৪১৮ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এর মধ্যে ৬২ জন ছিলেন নিরাপত্তা প্রহরী।

আন্দোলনের চাপে জুন মাসের বকেয়া বেতন ১৬ জুলাই পরিশোধ করা হলেও ওভারটাইমসহ অন্যান্য দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিক নেতার অভিযোগ, দুই মাসের মধ্যে ওভারটাইম এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের ৬ মাসের পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও কোম্পানি তা করেনি। তবে বাকি বকেয়া বেতন ওভারটাইম আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে।

এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিল্প ও কলকারখানা বিভাগের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানেই আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন শ্রমিকরা।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অলিম্পিক ফাইবার সিমেন্ট কোম্পানি স্বল্প পরিসরে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করে পুনরায় চালু করবে। এজন্য কোম্পানি একটি ফরমেট তৈরি করেছে। যারা চাকরি করতে ইচ্ছুক তাদের ফরমে ‘হ্যাঁ’ লিখতে হবে, আর অনিচ্ছুকদের ‘না’ লিখে ফরম জমা দিতে হবে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, যাদের ছাঁটাই করা হবে তাদের তিন মাসের বেতন একসাথে দেওয়ার কথা থাকলেও কোম্পানি কিস্তিতে দেওয়ার চিঠি দেবে। আর যারা চাকরিতে থাকতে চায় তাদের বর্তমান বকেয়া বেতনও দেওয়া লাগছে না কারণ চালু হওয়ার পরে তাদেরকে বকেয়া দেওয়ার কথা জানান। 

কবে নাগাদ কারখানা চালু হবে সে বিষয়ে শ্রমিক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাবেল জানান, বর্তমানে কারখানার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন। ওজোপাডিকো নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে, অলিম্পিক সিমেন্ট কোম্পানির কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৫ কোটি ৭৫ লাখ ৮ টাকা পাওনা। এই বিল ৩০ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করা গেলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কারখানা চালু হতে পারে।

তিনি আরও জানান, যাদের ছাঁটাই করা হয়েছে তাদের বকেয়া বেতন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে পরিশোধের কথা হবে।

এ বিষয়ে কোম্পানির দায়িত্বে থাকা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। অফিস সূত্রে জানা গেছে, কবে নাগাদ এংকর সিমেন্ট চালু হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, এংকর সিমেন্ট কোম্পানি ও শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে কারখানা কবে চালু হবে সেটি সম্পূর্ণ কোম্পানির বিষয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত