চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো পৌঁছানোর পর সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সিএনজি ট্যাক্সি ও গাড়িচালকদের মধ্যে। তবে আবাসিক ও শিল্প খাতে এখনো চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে আরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন কার্গো থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত শনিবার থেকে মহেশখালীর এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু হওয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর কদমতলীসহ বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দেখা গেছে। তবে কম গ্যাসের চাপের কারণে অনেক স্টেশনে গ্যাস ভরতে সময় বেশি লাগছে। ফলে কোথাও কোথাও এখনো দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
অন্যদিকে, বাসাবাড়ির আবাসিক গ্রাহকরাও কম গ্যাসের চাপে রান্নাবান্না নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এখনো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস ও পর্যাপ্ত চাপ পৌঁছাচ্ছে না। ফলে অনেক শিল্পকারখানা স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।
কেজিডিসিএলের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে স্বাভাবিক চাহিদা ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। এক সপ্তাহ আগে সরবরাহ নেমে এসেছিল মাত্র সাড়ে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে। তবে শনিবার থেকে সরবরাহ বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় এখনো প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।
প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কারখানাটিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। তবে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদনে যেতে পারে। সিইউএফএল পুরোপুরি চালু হলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি খাতে সারের সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিল্পমালিকদের দাবি, সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তির সুযোগ এখনো নেই। গত এক মাসের গ্যাস সংকটে উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও আর্থিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে দ্রুত পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আমিরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্যাসের স্বল্পতায় চট্টগ্রামের শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারখানা চালু থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কারণে ব্যয়ও বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে এবং রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু গ্যাস সরবরাহ চালু করাই যথেষ্ট নয়, শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, চট্টগ্রামে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ভারী শিল্প ইউনিটসহ তিন হাজারের বেশি কারখানা রয়েছে। ইস্পাত, সিমেন্ট, জাহাজ ভাঙা, ঢেউটিন, বস্ত্র, প্লাস্টিক ও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাত গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদ, বিদ্যুৎ বিল ও কারখানা রক্ষণাবেক্ষণসহ নিয়মিত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।
কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে আরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন কার্গো থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো পৌঁছানোর পর সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সিএনজি ট্যাক্সি ও গাড়িচালকদের মধ্যে। তবে আবাসিক ও শিল্প খাতে এখনো চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে আরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন কার্গো থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত শনিবার থেকে মহেশখালীর এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু হওয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর কদমতলীসহ বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দেখা গেছে। তবে কম গ্যাসের চাপের কারণে অনেক স্টেশনে গ্যাস ভরতে সময় বেশি লাগছে। ফলে কোথাও কোথাও এখনো দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
অন্যদিকে, বাসাবাড়ির আবাসিক গ্রাহকরাও কম গ্যাসের চাপে রান্নাবান্না নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এখনো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস ও পর্যাপ্ত চাপ পৌঁছাচ্ছে না। ফলে অনেক শিল্পকারখানা স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।
কেজিডিসিএলের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে স্বাভাবিক চাহিদা ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। এক সপ্তাহ আগে সরবরাহ নেমে এসেছিল মাত্র সাড়ে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে। তবে শনিবার থেকে সরবরাহ বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় এখনো প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।
প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কারখানাটিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। তবে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদনে যেতে পারে। সিইউএফএল পুরোপুরি চালু হলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি খাতে সারের সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিল্পমালিকদের দাবি, সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তির সুযোগ এখনো নেই। গত এক মাসের গ্যাস সংকটে উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও আর্থিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে দ্রুত পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আমিরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্যাসের স্বল্পতায় চট্টগ্রামের শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারখানা চালু থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কারণে ব্যয়ও বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে এবং রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু গ্যাস সরবরাহ চালু করাই যথেষ্ট নয়, শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, চট্টগ্রামে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ভারী শিল্প ইউনিটসহ তিন হাজারের বেশি কারখানা রয়েছে। ইস্পাত, সিমেন্ট, জাহাজ ভাঙা, ঢেউটিন, বস্ত্র, প্লাস্টিক ও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাত গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদ, বিদ্যুৎ বিল ও কারখানা রক্ষণাবেক্ষণসহ নিয়মিত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।
কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে আরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন কার্গো থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন