সংবাদ

বাঁধের ঢালে আলেকজনের নিঃসঙ্গ লড়াই, খবর রাখে না কেউ


হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম
হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

বাঁধের ঢালে আলেকজনের নিঃসঙ্গ লড়াই, খবর রাখে না কেউ
ছবি : সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ওয়াপদা বাঁধের ওপর একটি জরাজীর্ণ টিনের ছাপড়া। এখানেই অতি কষ্টে দিন কাটছে ছাপ্পান্ন বছর বয়সী আলেকজন বেওয়ার। স্বামী ও সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এই নারীর দিন কাটে অনাহারে, আর রাত কাটে দুশ্চিন্তায়। তিন মেয়ে ও আত্মীয়স্বজন থাকলেও কেউ আজ তার খোঁজ রাখেন না।

তিস্তা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আলেকজন এখন খাসজমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছেন। দিনাজপুর শহরের বিদ্যুৎ অফিসের পাশের বস্তিতে বিয়ে হয়েছিল তার। দাম্পত্য জীবনে তার তিনটি মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তাঁরা ঢাকায় বিয়ে করে সংসার করছেন। আলেকজনের অভিযোগ, পুত্রসন্তান না হওয়ায় ২০ বছর আগে স্বামী তাকে তালাক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এরপর কিছুদিন মেয়েদের কাছে থাকলেও তারাও তাকে বোঝা মনে করে বিদায় করে দিয়েছেন। গ্রামে ফিরে স্বজনদের কাছেও মেলেনি আশ্রয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, চৈত্র-বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে চারদিকে টিন দিয়ে ঘেরা খুপরি ঘরটি যেন আগুনের চুল্লি। একটু বাতাস হলেই নড়বড়ে ঘরটি কাঁপতে থাকে। তখন ভয়ে আলেকজন পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ঘরজুড়ে ভাঙাচোরা আসবাব আর কুড়িয়ে পাওয়া লাকড়ি। কোনো রকমে ভিক্ষা করে যা পান, তাই খেয়ে দিন চলে তার।

প্রতিবেশী কহিনুর বেগম বলেন, ‘আলেকজনের কপালটাই খারাপ। স্বামী তালাক দিয়েছে, মেয়েরাও খবর নেয় না। তার জাতীয় পরিচয়পত্রটিও (এনআইডি) ছিঁড়ে ফেলেছে। ফলে তিনি কোনো সরকারি ভাতাও পাচ্ছেন না।’

আলেকজন বেওয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাপ-ভাই ঘর থেকে বের করে দিলে। এখন যাব কোথায়? চোখের পানিও এখন আর বের হয় না। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।’

বিষয়টি নিয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তার এনআইডি কার্ড করার ব্যবস্থা করা হলে তাঁকে বিধবা বা বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


বাঁধের ঢালে আলেকজনের নিঃসঙ্গ লড়াই, খবর রাখে না কেউ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ওয়াপদা বাঁধের ওপর একটি জরাজীর্ণ টিনের ছাপড়া। এখানেই অতি কষ্টে দিন কাটছে ছাপ্পান্ন বছর বয়সী আলেকজন বেওয়ার। স্বামী ও সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এই নারীর দিন কাটে অনাহারে, আর রাত কাটে দুশ্চিন্তায়। তিন মেয়ে ও আত্মীয়স্বজন থাকলেও কেউ আজ তার খোঁজ রাখেন না।

তিস্তা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আলেকজন এখন খাসজমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছেন। দিনাজপুর শহরের বিদ্যুৎ অফিসের পাশের বস্তিতে বিয়ে হয়েছিল তার। দাম্পত্য জীবনে তার তিনটি মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তাঁরা ঢাকায় বিয়ে করে সংসার করছেন। আলেকজনের অভিযোগ, পুত্রসন্তান না হওয়ায় ২০ বছর আগে স্বামী তাকে তালাক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এরপর কিছুদিন মেয়েদের কাছে থাকলেও তারাও তাকে বোঝা মনে করে বিদায় করে দিয়েছেন। গ্রামে ফিরে স্বজনদের কাছেও মেলেনি আশ্রয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, চৈত্র-বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে চারদিকে টিন দিয়ে ঘেরা খুপরি ঘরটি যেন আগুনের চুল্লি। একটু বাতাস হলেই নড়বড়ে ঘরটি কাঁপতে থাকে। তখন ভয়ে আলেকজন পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ঘরজুড়ে ভাঙাচোরা আসবাব আর কুড়িয়ে পাওয়া লাকড়ি। কোনো রকমে ভিক্ষা করে যা পান, তাই খেয়ে দিন চলে তার।

প্রতিবেশী কহিনুর বেগম বলেন, ‘আলেকজনের কপালটাই খারাপ। স্বামী তালাক দিয়েছে, মেয়েরাও খবর নেয় না। তার জাতীয় পরিচয়পত্রটিও (এনআইডি) ছিঁড়ে ফেলেছে। ফলে তিনি কোনো সরকারি ভাতাও পাচ্ছেন না।’

আলেকজন বেওয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাপ-ভাই ঘর থেকে বের করে দিলে। এখন যাব কোথায়? চোখের পানিও এখন আর বের হয় না। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।’

বিষয়টি নিয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তার এনআইডি কার্ড করার ব্যবস্থা করা হলে তাঁকে বিধবা বা বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত