ভয়াবহ বন্যা-পাহাড় ধসের চার দিন পরও নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজারে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতে নিহতের সংখ্যা ৭ এবং নিখোঁজ ৫৫৪ জন।
নেপালের অর্থমন্ত্রী সোয়ার্নিম ওয়াগল জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্নির্মাণে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশ।
বিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দারা এখন স্বজন ও ঘরবাড়ি হারানোর শোকে পাথর। টিমুরের কাস্টমস এজেন্ট রাজু বুধাথোকি বলেন, ‘একটা সময় পাহাড় কাঁপতে শুরু করলো, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও ভয়াবহ।’
তিনি জানান, দৌড়ে বাঁচতে গিয়ে হাত কেটে গেছে তাঁর। পেছনে ফিরে দেখেন পুরো টিমুর বাজার মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
আরেক কাস্টমস এজেন্ট প্রকাশ গৌতমের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না কোথায় দৌড়াবো- শুধু বাঁচতে চাইছিলাম। উঁচু পাহাড় থেকে দেখেছি মানুষ ভেসে যাচ্ছে, সুন্দর টিমুর এখন শুধু বালি আর কাদার সমুদ্র।’
উদ্ধার অভিযান চললেও নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে একটি প্রতিবন্ধক হ্রদ (ব্যারিয়ার লেক) সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। এর বাঁধ ভেঙে গেলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।
নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৯০০ জনকে উদ্ধার করেছে। তবে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
চীনা উদ্ধারকারী দল সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দেখেছে, ‘চোখের দৃষ্টি যতটুকু যায়- সব ধ্বংসস্তূপ।’ স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, কাদা ও পাথরের স্তূপের নিচে লাশ শনাক্ত করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রেড ক্রসের অনুমান, এই বিপর্যয়ে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেপালি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বসনেত জানিয়েছেন, ‘আমি জীবনে এরকম বিপর্যয় দেখিনি।’
নেপাল সরকার পুনর্বাসন ও উদ্ধার কাজে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে- উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা। সূত্র: গার্ডিয়ান

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
ভয়াবহ বন্যা-পাহাড় ধসের চার দিন পরও নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজারে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতে নিহতের সংখ্যা ৭ এবং নিখোঁজ ৫৫৪ জন।
নেপালের অর্থমন্ত্রী সোয়ার্নিম ওয়াগল জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্নির্মাণে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশ।
বিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দারা এখন স্বজন ও ঘরবাড়ি হারানোর শোকে পাথর। টিমুরের কাস্টমস এজেন্ট রাজু বুধাথোকি বলেন, ‘একটা সময় পাহাড় কাঁপতে শুরু করলো, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও ভয়াবহ।’
তিনি জানান, দৌড়ে বাঁচতে গিয়ে হাত কেটে গেছে তাঁর। পেছনে ফিরে দেখেন পুরো টিমুর বাজার মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
আরেক কাস্টমস এজেন্ট প্রকাশ গৌতমের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না কোথায় দৌড়াবো- শুধু বাঁচতে চাইছিলাম। উঁচু পাহাড় থেকে দেখেছি মানুষ ভেসে যাচ্ছে, সুন্দর টিমুর এখন শুধু বালি আর কাদার সমুদ্র।’
উদ্ধার অভিযান চললেও নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে একটি প্রতিবন্ধক হ্রদ (ব্যারিয়ার লেক) সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। এর বাঁধ ভেঙে গেলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।
নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৯০০ জনকে উদ্ধার করেছে। তবে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
চীনা উদ্ধারকারী দল সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দেখেছে, ‘চোখের দৃষ্টি যতটুকু যায়- সব ধ্বংসস্তূপ।’ স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, কাদা ও পাথরের স্তূপের নিচে লাশ শনাক্ত করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রেড ক্রসের অনুমান, এই বিপর্যয়ে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেপালি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বসনেত জানিয়েছেন, ‘আমি জীবনে এরকম বিপর্যয় দেখিনি।’
নেপাল সরকার পুনর্বাসন ও উদ্ধার কাজে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে- উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা। সূত্র: গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন