রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের স্টেশন রোডে নিজ কার্যালয়ে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক লিখিত বক্তব্যে জানান, উপজেলায় ৩১ জন ডিলার রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় ডিলার ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে উপকারভোগীদের ২৭ থেকে ২৮ কেজি চাল দিচ্ছেন। সরকারি গুদাম থেকে চাল তুলে নিজস্ব গুদামে নিয়ে বিশেষ উপায়ে বস্তা থেকে চাল বের করে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক ডিলার সরকারি বস্তা বদলে উপকারভোগীদের নিজস্ব বস্তায় চাল নিতে বাধ্য করছেন এবং সেই সুযোগে চাল চুরি করা হচ্ছে।
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কালুপাড়া ইউনিয়নের লালদিঘী বাজারের ডিলার রায়হান কবীর ও বৈরামপুর এলাকার জাম্বুর মোড়ের ডিলার কাইফুল ইসলাম উপকারভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ কার্ড বাতিলের হুমকি দেন। এমনকি খাদ্য অফিসের নাম ভাঙিয়ে নতুন কার্ডের জন্য উপকারভোগীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল হক মানিক আরও বলেন, ‘উপকারভোগীদের সরকারি বস্তার ওজন ঠিক রেখেই চাল সরবরাহ করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ডিলাররা মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সংবাদ সম্মেলনে কালুপাড়া ইউনিয়নের উপকারভোগী এনদাদুল হক, মমিনুল হক, মোক্তারুল হক ও শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিপ্লব সিংহ রায় বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে ডিলারদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কার্ডের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, খাদ্য অফিস থেকে বিনামূল্যে কার্ড সরবরাহ করা হয়, ডিলারদের কার্ড দেওয়ার বা টাকা নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।
আপনার মতামত লিখুন