বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গড়ে ওঠেনি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা। প্রয়োজনের তুলনায় বাস-মিনিবাস কম। আবার যেগুলো চলছে তার উল্লেখযোগ্য অংশের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্ধারিত স্থানে বাস দাঁড়ানোর ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, যানজটও তীব্র হচ্ছে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে বাস-মিনিবাস চলাচলের জন্য ১৭টি রুট নির্ধারিত রয়েছে। রুট পারমিট আছে ২ হাজার ৯০০টি। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন বাসের সংখ্যা ৮০৩টি। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় অনুমোদিত সব ধরনের যানবাহনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। প্রশ্ন হচ্ছে, এত যানবাহন থাকার পরও নগরের গণপরিবহন সংকট কেন?
শুধু বাসের সংখ্যা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর মেলানো কঠিন। কোন যান কোন রুটে চলছে, দিনে কতক্ষণ চলছে, যাত্রী পরিবহনের বদলে কতগুলো বাস শ্রমিক পরিবহন বা রিজার্ভ ভাড়ায় ব্যবহার হচ্ছে সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাস মালিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, রুট পারমিট থাকা গণপরিবহনের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সকালে ও বিকেলে শিল্পকারখানার শ্রমিক আনা-নেয়ার কাজ করে। শ্রমিক পরিবহনের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে তার জন্য পৃথক বা নির্ধারিত ব্যবস্থা থাকা দরকার। সেটা না করে যাত্রীবাহী গণপরিবহনের বড় অংশকে রিজার্ভে ব্যবহার করা হলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়বেই।
বিআরটিসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চট্টগ্রামে বিআরটিসির ৭২টি বাস থাকলেও নগরের অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনে সেগুলোর ভূমিকা সীমিত।
শুধু বাসের স্বল্পতা নয়, ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে। গণপরিবহন যদি নির্ধারিত রুট, নির্ধারিত ভাড়া ও নির্ধারিত স্টপেজ অনুযায়ী না চলে, তাহলে সেটিকে কার্যকর গণপরিবহনব্যবস্থা বলা কঠিন। এসব বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
চট্টগ্রামের গণপরিবহন সংকটের টেকসই সমাধান করতে হবে। শুধু নতুন বাস নামানোই যথেষ্ট নয়। কোন রুটে কত যাত্রী, কোন সময়ে কত বাস প্রয়োজন, কত বাস নিয়মিত চলাচল করছে এবং কতটি রিজার্ভে যাচ্ছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরিবহন পরিকল্পনা করতে হবে।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গড়ে ওঠেনি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা। প্রয়োজনের তুলনায় বাস-মিনিবাস কম। আবার যেগুলো চলছে তার উল্লেখযোগ্য অংশের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্ধারিত স্থানে বাস দাঁড়ানোর ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, যানজটও তীব্র হচ্ছে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে বাস-মিনিবাস চলাচলের জন্য ১৭টি রুট নির্ধারিত রয়েছে। রুট পারমিট আছে ২ হাজার ৯০০টি। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন বাসের সংখ্যা ৮০৩টি। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় অনুমোদিত সব ধরনের যানবাহনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। প্রশ্ন হচ্ছে, এত যানবাহন থাকার পরও নগরের গণপরিবহন সংকট কেন?
শুধু বাসের সংখ্যা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর মেলানো কঠিন। কোন যান কোন রুটে চলছে, দিনে কতক্ষণ চলছে, যাত্রী পরিবহনের বদলে কতগুলো বাস শ্রমিক পরিবহন বা রিজার্ভ ভাড়ায় ব্যবহার হচ্ছে সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাস মালিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, রুট পারমিট থাকা গণপরিবহনের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সকালে ও বিকেলে শিল্পকারখানার শ্রমিক আনা-নেয়ার কাজ করে। শ্রমিক পরিবহনের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তবে তার জন্য পৃথক বা নির্ধারিত ব্যবস্থা থাকা দরকার। সেটা না করে যাত্রীবাহী গণপরিবহনের বড় অংশকে রিজার্ভে ব্যবহার করা হলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়বেই।
বিআরটিসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চট্টগ্রামে বিআরটিসির ৭২টি বাস থাকলেও নগরের অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনে সেগুলোর ভূমিকা সীমিত।
শুধু বাসের স্বল্পতা নয়, ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে। গণপরিবহন যদি নির্ধারিত রুট, নির্ধারিত ভাড়া ও নির্ধারিত স্টপেজ অনুযায়ী না চলে, তাহলে সেটিকে কার্যকর গণপরিবহনব্যবস্থা বলা কঠিন। এসব বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
চট্টগ্রামের গণপরিবহন সংকটের টেকসই সমাধান করতে হবে। শুধু নতুন বাস নামানোই যথেষ্ট নয়। কোন রুটে কত যাত্রী, কোন সময়ে কত বাস প্রয়োজন, কত বাস নিয়মিত চলাচল করছে এবং কতটি রিজার্ভে যাচ্ছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরিবহন পরিকল্পনা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন