রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের প্রায় এক কোটি গ্রাহক। সংকটের মধ্যে সরকার ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। দাম বাড়ানোর পরও বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, দাম বাড়ানোর পরও সংকট কেন কাটছে না?
এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন দাবি করেছে, দেশে গ্যাসের আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত। সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন, যা আগের মাসের কাছাকাছি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাড়ার কথাও বলছেন তারা।
এলপিজি আমদানিকারকদের মধ্যে মাত্র ছয়টি সক্রিয় আছে বলে জানা গেছে। আমদানির বাজারে প্রতিযোগিতা কম থাকলে সরবরাহ ও দামের ওপর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়তে পারে। নতুন আমদানিকারকদের সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। কোম্পানিগুলোর সরবরাহের হিসাবও নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করে সমস্যার সমাধান হবে না। কোম্পানি থেকে শুরু করে পরিবেশক ও ডিলার পর্যায়ে কোথায় সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে তা শনাক্ত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের খরচ ও কমিশনের দাবিও যাচাই করা দরকার।
এলপিজি এখন বহু পরিবারের রান্নার প্রধান অবলম্বন। তাই এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়াচ্ছে। সরকারকে দ্রুত এর সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। নির্ধারিত দামে যেন এলপিজি বিক্রি হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের প্রায় এক কোটি গ্রাহক। সংকটের মধ্যে সরকার ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। দাম বাড়ানোর পরও বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, দাম বাড়ানোর পরও সংকট কেন কাটছে না?
এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন দাবি করেছে, দেশে গ্যাসের আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত। সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন, যা আগের মাসের কাছাকাছি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাড়ার কথাও বলছেন তারা।
এলপিজি আমদানিকারকদের মধ্যে মাত্র ছয়টি সক্রিয় আছে বলে জানা গেছে। আমদানির বাজারে প্রতিযোগিতা কম থাকলে সরবরাহ ও দামের ওপর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়তে পারে। নতুন আমদানিকারকদের সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। কোম্পানিগুলোর সরবরাহের হিসাবও নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করে সমস্যার সমাধান হবে না। কোম্পানি থেকে শুরু করে পরিবেশক ও ডিলার পর্যায়ে কোথায় সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে তা শনাক্ত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের খরচ ও কমিশনের দাবিও যাচাই করা দরকার।
এলপিজি এখন বহু পরিবারের রান্নার প্রধান অবলম্বন। তাই এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়াচ্ছে। সরকারকে দ্রুত এর সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। নির্ধারিত দামে যেন এলপিজি বিক্রি হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন