দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। এর বিপরীতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। যে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, আর সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাড়ে উৎপাদন খরচ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থান। দেশের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুতও সীমিত। নতুন কোনো ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোলার গ্যাস ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। তবে এসব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি আমদানি তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও এর বড় আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়ে যায়। যুদ্ধ বা অন্য কোনো কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বাড়তি টাকা খরচ করেও সময়মতো গ্যাস পাওয়া কঠিন হতে পারে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের আগে চাহিদা, আমদানি খরচ, অবকাঠামোর সক্ষমতা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরবরাহের উৎসেও বৈচিত্র্য আনতে হবে।
জ্বালানি নীতিতে তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি। এলএনজি আমদানি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে একে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্থলভাগ ও সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের প্রসার ঘটাতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমানো গেলে শিল্পের জন্য বেশি গ্যাস রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন অনেকে। গৃহস্থালিতে রান্নার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্যাসের অপচয় ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করতে হবে।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। এর বিপরীতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। যে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, আর সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাড়ে উৎপাদন খরচ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থান। দেশের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুতও সীমিত। নতুন কোনো ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোলার গ্যাস ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। তবে এসব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি আমদানি তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও এর বড় আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়ে যায়। যুদ্ধ বা অন্য কোনো কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বাড়তি টাকা খরচ করেও সময়মতো গ্যাস পাওয়া কঠিন হতে পারে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের আগে চাহিদা, আমদানি খরচ, অবকাঠামোর সক্ষমতা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরবরাহের উৎসেও বৈচিত্র্য আনতে হবে।
জ্বালানি নীতিতে তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি। এলএনজি আমদানি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে একে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্থলভাগ ও সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের প্রসার ঘটাতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমানো গেলে শিল্পের জন্য বেশি গ্যাস রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন অনেকে। গৃহস্থালিতে রান্নার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্যাসের অপচয় ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন