সংবাদ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই


প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে দুই দফায় মারধর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ধর্ম নিয়ে কটূক্তি কারও মনে আঘাত দিতে পারে। তবে কারও বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলেই তাকে মারধর করা বা হত্যা করার অধিকার কারও নেই।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি অডিও কথোপকথনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। শামীমের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। তবে তার মানসিক অবস্থা যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই একদল মানুষ তাকে শাস্তি দিতে নেমে পড়ে। একজন মানুষ অপরাধ করেছেন কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। জনতার নয়।

পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পরও হামলা বন্ধ হয়নি। একদল মানুষ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মারধর করে। চিকিৎসকদের বাধা উপেক্ষা করে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। হাসপাতাল মানুষের জীবন রক্ষার জায়গা। সেখানে এমন হামলা রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার পরিবেশকেও বিপন্ন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি বা হত্যার ঘটনা দেশে নতুন নয়। গুজব, অপপ্রচার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আগেও সহিংসতা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দেখা যায়, অভিযোগ যাচাইয়ের আগেই উত্তেজিত জনতা কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করে শাস্তি দিতে চায়। এ প্রবণতা বন্ধ না হলে যেকোনো মানুষ গুজবের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে পারেন।

শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ থাকলে তার বিচার আদালতেই হবে। গণপিটুনি কোনো বিচার নয়, এটি অপরাধ। অভিযোগের নামে মানুষ হত্যার এই প্রবণতা বন্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে দুই দফায় মারধর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ধর্ম নিয়ে কটূক্তি কারও মনে আঘাত দিতে পারে। তবে কারও বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলেই তাকে মারধর করা বা হত্যা করার অধিকার কারও নেই।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি অডিও কথোপকথনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। শামীমের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। তবে তার মানসিক অবস্থা যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই একদল মানুষ তাকে শাস্তি দিতে নেমে পড়ে। একজন মানুষ অপরাধ করেছেন কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। জনতার নয়।

পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পরও হামলা বন্ধ হয়নি। একদল মানুষ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মারধর করে। চিকিৎসকদের বাধা উপেক্ষা করে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। হাসপাতাল মানুষের জীবন রক্ষার জায়গা। সেখানে এমন হামলা রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার পরিবেশকেও বিপন্ন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি বা হত্যার ঘটনা দেশে নতুন নয়। গুজব, অপপ্রচার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আগেও সহিংসতা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দেখা যায়, অভিযোগ যাচাইয়ের আগেই উত্তেজিত জনতা কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করে শাস্তি দিতে চায়। এ প্রবণতা বন্ধ না হলে যেকোনো মানুষ গুজবের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে পারেন।

শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ থাকলে তার বিচার আদালতেই হবে। গণপিটুনি কোনো বিচার নয়, এটি অপরাধ। অভিযোগের নামে মানুষ হত্যার এই প্রবণতা বন্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত