নেপালের ভোতেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৩ জনে। আরও ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথর ধসের ফলে এই ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয় । ভোতেকোশী নদী দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে নেমে আসে, যা মধ্য নেপালের অসংখ্য গ্রাম, বাড়ি, গাড়ি, সড়ক ও সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয় । নেপালের চীনের সঙ্গে প্রধান স্থল বাণিজ্য পথ ভোতেকোশী করিডোর ও রাসুওয়াগড়ি সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এনডিআরআরএমএর তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়-২৭২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০৭টি নওয়ালপারাসি পূর্ব এবং ১৫১টি নওয়ালপারাসি পশ্চিম জেলায় পাওয়া গেছে । অন্যান্য জেলাগুলোতে উদ্ধারকৃত মৃতদেহের সংখ্যা: নুয়াকোটে ৯৫টি, গোর্খায় ৬২টি, ধাদিঙে ৫৫টি, তানাহুতে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি । নুয়াকোটে নিখোঁজের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং রাসুয়ায় ৮৬৫ জন।
এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে । এই অভিযানে ২০ হাজার ৮১৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে । এর মধ্যে ৮ হাজার ৭২২ জন নেপালি সেনাবাহিনী, ৭ হাজার ৮৯৪ জন নেপাল পুলিশ ও ৪ হাজার ২০৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য । উদ্ধার কাজে ৪১১টি হেলিকপ্টার উড়ান সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ৩ হাজার ৩৪৪ জন নেপালি ও ২৫২ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে ।
ভারত থেকে ১৮ সদস্যের একটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল নেপালে পৌঁছেছে, যারা ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্ত করতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতে ১৬ জন নিহত ও প্রায় ৫৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর দেবঘাটের সামাজিক বনে সমাহিত করা হচ্ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এক অভূতপূর্ব ও বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কঠিন আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্যেও আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে’। একই সঙ্গে, খবরের নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: কাঠমুন্ডু পোস্ট
/

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
নেপালের ভোতেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৩ জনে। আরও ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথর ধসের ফলে এই ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয় । ভোতেকোশী নদী দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে নেমে আসে, যা মধ্য নেপালের অসংখ্য গ্রাম, বাড়ি, গাড়ি, সড়ক ও সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয় । নেপালের চীনের সঙ্গে প্রধান স্থল বাণিজ্য পথ ভোতেকোশী করিডোর ও রাসুওয়াগড়ি সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এনডিআরআরএমএর তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়-২৭২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০৭টি নওয়ালপারাসি পূর্ব এবং ১৫১টি নওয়ালপারাসি পশ্চিম জেলায় পাওয়া গেছে । অন্যান্য জেলাগুলোতে উদ্ধারকৃত মৃতদেহের সংখ্যা: নুয়াকোটে ৯৫টি, গোর্খায় ৬২টি, ধাদিঙে ৫৫টি, তানাহুতে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি । নুয়াকোটে নিখোঁজের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং রাসুয়ায় ৮৬৫ জন।
এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে । এই অভিযানে ২০ হাজার ৮১৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে । এর মধ্যে ৮ হাজার ৭২২ জন নেপালি সেনাবাহিনী, ৭ হাজার ৮৯৪ জন নেপাল পুলিশ ও ৪ হাজার ২০৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য । উদ্ধার কাজে ৪১১টি হেলিকপ্টার উড়ান সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ৩ হাজার ৩৪৪ জন নেপালি ও ২৫২ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে ।
ভারত থেকে ১৮ সদস্যের একটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল নেপালে পৌঁছেছে, যারা ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্ত করতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতে ১৬ জন নিহত ও প্রায় ৫৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর দেবঘাটের সামাজিক বনে সমাহিত করা হচ্ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এক অভূতপূর্ব ও বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কঠিন আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্যেও আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে’। একই সঙ্গে, খবরের নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: কাঠমুন্ডু পোস্ট
/

আপনার মতামত লিখুন