সংবাদ

মাদক সেবনের আলামত মেলেনি রংপুরের ৪ খুনের আসামিদের শরীরে


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

মাদক সেবনের আলামত মেলেনি রংপুরের ৪ খুনের আসামিদের শরীরে
ছবি : সংবাদ

রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়া মহল্লায় স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে মাদক সেবনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের ফলাফল নেতিবাচক (নেগেটিভ) হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশ।

রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, কারাগারে আটক দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা করে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এর আগে, গত রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে আসামিদের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আসামিদের কারাগারের বাইরে আনা সম্ভব না হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনোলজিস্টদের কারাগারে নিয়ে গিয়ে এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী জানান, আদালতের অনুমতিক্রমে জেলগেটে নমুনা সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবে তিন দফা পরীক্ষার পর এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে ডোপ টেস্টের ফলাফল ‘নেগেটিভ’ আসায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক দাবি ছিল, আসামিরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তদন্ত চলাকালে পুলিশ জানিয়েছিল, আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তাদের বন্ধু সীমান্ত দাসের বাসায় ৪টি এবং মাদক ব্যবসায়ী শান্তর কাছ থেকে মোবাইল বন্ধক রেখে আরও ৪টি ইয়াবা কিনে সেবন করে। এরপর শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবনকালে শিক্ষক তাদের দেখে ফেললে তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায়। কিন্তু ল্যাব পরীক্ষায় শরীরে মাদকের অস্তিত্ব না মেলায় পুলিশের সেই দাবি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর করা মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


মাদক সেবনের আলামত মেলেনি রংপুরের ৪ খুনের আসামিদের শরীরে

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়া মহল্লায় স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে মাদক সেবনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের ফলাফল নেতিবাচক (নেগেটিভ) হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশ।

রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, কারাগারে আটক দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা করে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এর আগে, গত রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে আসামিদের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আসামিদের কারাগারের বাইরে আনা সম্ভব না হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনোলজিস্টদের কারাগারে নিয়ে গিয়ে এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী জানান, আদালতের অনুমতিক্রমে জেলগেটে নমুনা সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবে তিন দফা পরীক্ষার পর এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে ডোপ টেস্টের ফলাফল ‘নেগেটিভ’ আসায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক দাবি ছিল, আসামিরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তদন্ত চলাকালে পুলিশ জানিয়েছিল, আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তাদের বন্ধু সীমান্ত দাসের বাসায় ৪টি এবং মাদক ব্যবসায়ী শান্তর কাছ থেকে মোবাইল বন্ধক রেখে আরও ৪টি ইয়াবা কিনে সেবন করে। এরপর শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবনকালে শিক্ষক তাদের দেখে ফেললে তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায়। কিন্তু ল্যাব পরীক্ষায় শরীরে মাদকের অস্তিত্ব না মেলায় পুলিশের সেই দাবি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর করা মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত