জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মার্কাজ মসজিদ সংলগ্ন একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সারিবদ্ধ ছয়টি দোকান ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ি ফেরার পরই রিপন মোদকের মুদিদোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল জমজম, ভাই ভাই বেডিং হাউজ, ইমন স্টোর ও এর গুদাম, জহির বেডিং স্টোর, মুসলিম ভ্যারাইটিজ প্লাস্টিক স্টোর, হাসান ফল ভাণ্ডার এবং হুসাইন দই-চিড়া ঘর।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রিপন মোদক জানান, আগুনে তার দোকানের নগদ আড়াই লাখ টাকাসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এ ছাড়া শাহীন মিয়ার ১০ লাখ এবং হোটেল জমজমের মালিক মানিকের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চোখের সামনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর এবং সাবেক মেয়র নজরুল সওদাগরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’
আপনার মতামত লিখুন