একটা সময় ছিল, যখন আমাদের এই বাংলার চারপাশটা ছিল একেবারে খাঁটি, পুরোটা যেন প্রকৃতির কোলে পরম আদরে গড়া। মনে পড়ে কি সেই সকালগুলো? যেখানে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ছিল না, হাতে কোনো স্মার্টফোন ছিল না তবুও আমাদের মনে প্রশান্তির কোনো অভাবও ছিল না।
তখনকার
গ্রাম-বাংলা, শহর আর মানুষ সবকিছুই ছিল এক নিটোল ভালোবাসার নাম।
সবকিছুই ছিল সহজ, সরল আর নির্ভেজাল। ঘুম ভাঙলেই কানে আসত পাখির ডাক কিংবা স্কুলে নামতা গোণা বা মক্তবে একঝাঁক শিশুর কোরআন
তেলাওয়াতের সুর। ভোরের আলো ফুটতেই গাছীরা খেজুর গাছ বেয়ে রস সংগ্রহ করত, আর কৃষকেরা
কাঁধে লাঙ্গল নিয়ে ছুটত দিগন্তজোড়া মাঠের পানে।
সেই সময়
শৈশব মানেই ছিল রোদে পুড়ে একাকার হওয়া। বইয়ের পাতার ভাঁজে প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি
লুকানো কিংবা কাঠের পেন্সিল শার্প করার সেই অদ্ভুত তৃপ্তি। তখন বিনোদন বলতে ছিল
পাড়ার মাঠে চোর-পুলিশ খেলা, মার্বেল কিংবা লাটিমের লড়াই। বিকেলের আকাশ জুড়ে উড়ত
রঙ-বেরঙের ঘুড়ি।
কোনো মেহমান
আসার খবর পেলেই বাড়ির বউ-ঝিরা রাতভর ঢেকিতে চাল কুটে পিঠা-পুলির ধুম লাগিয়ে দিত।
তখন আনন্দ ছিল সাধারণ জিনিসে, এক টাকার বরফ মালাই কিংবা স্কুল গেটের আচারওয়ালার
সেই ঝাল চাটনি। আজ ইউটিউবের মিলিয়ন মিলিয়ন ভিডিওর ভিড়ে সেই সরল উত্তেজনাটুকু কোথায়
যেন হারিয়ে গেছে!
মনে পড়ে সেই
বায়োস্কোপওয়ালার কথা? কাঠের বাক্সে চোখ রেখে এক অন্যরকম জাদুর দুনিয়ায় হারিয়ে
যেতাম আমরা। তখন ‘টাকা-পয়সার’ চেয়ে ‘পয়সা-আনার’
চল ছিল বেশি।। সেই দিনগুলো আজ কেবলই রূপকথা!
তখনকার দিনে
পালকিতে চড়ত শুধু ধনীরা, আর সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে পাড়ি দিত।
বর্ষায় কাদা মাখা রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়া, আর বৃষ্টির
দিনে বারান্দায় বসে চাল ভাজা আর নারিকেল খাওয়ার সেই আমেজ কি আর কখনো ফিরে আসবে?
তখন দাঁত
মাজার জন্য ব্যবহার হতো গাছের ডাল কিংবা চুলার কয়লা। দুপুরে পুকুরে দাপিয়ে গোসল
শেষে গায়ে মাখা হতো খাঁটি সরিষার তেল। আজ আমাদের হাতে বিশ্বের সব তথ্য আছে,
কিন্তু সেই ধুলোমাখা অকৃত্রিম আনন্দটুকু নেই।
সময় বদলেছে,
বদলেছে শৈশবও। স্মার্টফোনের নীল আলোয় আজ বন্দি আমাদের আগামী প্রজন্ম। ৯০
দশকের সেই সোনালী বিকেলগুলো হয়তো আর কোনোদিন ফিরবে না। তবে আমাদের হৃদয়ের এক কোণে
সেই স্মৃতিগুলো আজও অমলিন, এক অপার্থিব সুখানুভূতি হয়ে।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
একটা সময় ছিল, যখন আমাদের এই বাংলার চারপাশটা ছিল একেবারে খাঁটি, পুরোটা যেন প্রকৃতির কোলে পরম আদরে গড়া। মনে পড়ে কি সেই সকালগুলো? যেখানে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ছিল না, হাতে কোনো স্মার্টফোন ছিল না তবুও আমাদের মনে প্রশান্তির কোনো অভাবও ছিল না।
তখনকার
গ্রাম-বাংলা, শহর আর মানুষ সবকিছুই ছিল এক নিটোল ভালোবাসার নাম।
সবকিছুই ছিল সহজ, সরল আর নির্ভেজাল। ঘুম ভাঙলেই কানে আসত পাখির ডাক কিংবা স্কুলে নামতা গোণা বা মক্তবে একঝাঁক শিশুর কোরআন
তেলাওয়াতের সুর। ভোরের আলো ফুটতেই গাছীরা খেজুর গাছ বেয়ে রস সংগ্রহ করত, আর কৃষকেরা
কাঁধে লাঙ্গল নিয়ে ছুটত দিগন্তজোড়া মাঠের পানে।
সেই সময়
শৈশব মানেই ছিল রোদে পুড়ে একাকার হওয়া। বইয়ের পাতার ভাঁজে প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি
লুকানো কিংবা কাঠের পেন্সিল শার্প করার সেই অদ্ভুত তৃপ্তি। তখন বিনোদন বলতে ছিল
পাড়ার মাঠে চোর-পুলিশ খেলা, মার্বেল কিংবা লাটিমের লড়াই। বিকেলের আকাশ জুড়ে উড়ত
রঙ-বেরঙের ঘুড়ি।
কোনো মেহমান
আসার খবর পেলেই বাড়ির বউ-ঝিরা রাতভর ঢেকিতে চাল কুটে পিঠা-পুলির ধুম লাগিয়ে দিত।
তখন আনন্দ ছিল সাধারণ জিনিসে, এক টাকার বরফ মালাই কিংবা স্কুল গেটের আচারওয়ালার
সেই ঝাল চাটনি। আজ ইউটিউবের মিলিয়ন মিলিয়ন ভিডিওর ভিড়ে সেই সরল উত্তেজনাটুকু কোথায়
যেন হারিয়ে গেছে!
মনে পড়ে সেই
বায়োস্কোপওয়ালার কথা? কাঠের বাক্সে চোখ রেখে এক অন্যরকম জাদুর দুনিয়ায় হারিয়ে
যেতাম আমরা। তখন ‘টাকা-পয়সার’ চেয়ে ‘পয়সা-আনার’
চল ছিল বেশি।। সেই দিনগুলো আজ কেবলই রূপকথা!
তখনকার দিনে
পালকিতে চড়ত শুধু ধনীরা, আর সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে পাড়ি দিত।
বর্ষায় কাদা মাখা রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়া, আর বৃষ্টির
দিনে বারান্দায় বসে চাল ভাজা আর নারিকেল খাওয়ার সেই আমেজ কি আর কখনো ফিরে আসবে?
তখন দাঁত
মাজার জন্য ব্যবহার হতো গাছের ডাল কিংবা চুলার কয়লা। দুপুরে পুকুরে দাপিয়ে গোসল
শেষে গায়ে মাখা হতো খাঁটি সরিষার তেল। আজ আমাদের হাতে বিশ্বের সব তথ্য আছে,
কিন্তু সেই ধুলোমাখা অকৃত্রিম আনন্দটুকু নেই।
সময় বদলেছে,
বদলেছে শৈশবও। স্মার্টফোনের নীল আলোয় আজ বন্দি আমাদের আগামী প্রজন্ম। ৯০
দশকের সেই সোনালী বিকেলগুলো হয়তো আর কোনোদিন ফিরবে না। তবে আমাদের হৃদয়ের এক কোণে
সেই স্মৃতিগুলো আজও অমলিন, এক অপার্থিব সুখানুভূতি হয়ে।

আপনার মতামত লিখুন