জীবনে হঠাৎ চাকরি হারানো, অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর মতো নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিকূলতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মানসিক সহনশীলতা। এই সক্ষমতা থাকলে কঠিন পরিস্থিতিকে সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
মানসিক সহনশীলতার ঘাটতি থাকলে কোনো সমস্যায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। দেখা দিতে পারে অসহায়ত্ব, অতিরিক্ত চাপ কিংবা হতাশা। পরিস্থিতি সামলাতে কেউ কেউ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের আশ্রয়ও নিতে পারেন। এর মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ উল্লেখযোগ্য।
তবে সহনশীলতা কোনো সমস্যাকে পুরোপুরি দূর করে দেয় না। বরং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাস্তবতা মেনে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে, জীবনকে উপভোগ করতে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আর এই সক্ষমতা জন্মগতভাবে সবার মধ্যে সমান থাকে না, নিয়মিত কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তা গড়ে তোলা সম্ভব।
সহনশীলতা হলো প্রতিকূলতা, মানসিক চাপ বা কঠিন ঘটনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। খারাপ কোনো ঘটনা ঘটলে রাগ, দুঃখ, ভয় কিংবা কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। তবে মানসিকভাবে সহনশীল ব্যক্তি এসব অনুভূতির মধ্যেও ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিতে পারেন।
সহনশীল হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব সমস্যা একাই মোকাবিলা করতে হবে। বরং প্রয়োজনের সময় পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষের সহযোগিতা চাওয়াও মানসিকভাবে শক্ত থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মানসিক সহনশীলতা বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মতো বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপীড়ন, মানসিক আঘাত বা অন্য কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পর নিজেকে সামলে উঠতেও এটি ভূমিকা রাখে।
কারও আগে থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকলে, সহনশীলতা বাড়ানোর অভ্যাস তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।
পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গে সুস্থ ও ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করুন। প্রয়োজনের সময় কাছের মানুষের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ও সমস্যার কথা ভাগ করে নিন। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, সামাজিক কর্মকাণ্ড কিংবা আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হওয়া অন্যদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিদিন এমন কিছু করার চেষ্টা করুন, যা আপনাকে সাফল্য ও আত্মতৃপ্তির অনুভূতি দেয়। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জনও ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে।
আগে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন, তা ভেবে দেখুন। কোন বিষয়গুলো তখন আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল, সেগুলো চিহ্নিত করুন। চাইলে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারেন। এতে নিজের আচরণ ও প্রতিক্রিয়ার ধরন বুঝতে সুবিধা হবে।
অতীতের ঘটনা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। পরিবর্তনকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া এবং অযথা দুশ্চিন্তা কমানো সহজ হয়।
মানসিকভাবে ভালো থাকার জন্য নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনের দিকেও নজর দিতে হবে। পছন্দের কাজ ও শখের জন্য সময় রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
মানসিক চাপ কমাতে গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস, ধ্যান, যোগব্যায়াম, প্রার্থনা কিংবা অন্য কোনো আরামদায়ক পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। নিজের জন্য একটি নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করাও উপকারী।
কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার প্রথম ধাপ হলো সমস্যাটিকে স্বীকার করা। কী করতে হবে তা নির্ধারণ করে বাস্তবসম্মত একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করুন।
বড় কোনো ধাক্কা, মানসিক আঘাত কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগতেই পারে। তাই নিজেকে সময় দিতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিবার, বন্ধু কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, প্রতিকূলতা জীবনকে কঠিন করে তুলতে পারে, কিন্তু সঠিকভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জীবনে হঠাৎ চাকরি হারানো, অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর মতো নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিকূলতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মানসিক সহনশীলতা। এই সক্ষমতা থাকলে কঠিন পরিস্থিতিকে সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
মানসিক সহনশীলতার ঘাটতি থাকলে কোনো সমস্যায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। দেখা দিতে পারে অসহায়ত্ব, অতিরিক্ত চাপ কিংবা হতাশা। পরিস্থিতি সামলাতে কেউ কেউ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের আশ্রয়ও নিতে পারেন। এর মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ উল্লেখযোগ্য।
তবে সহনশীলতা কোনো সমস্যাকে পুরোপুরি দূর করে দেয় না। বরং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাস্তবতা মেনে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে, জীবনকে উপভোগ করতে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আর এই সক্ষমতা জন্মগতভাবে সবার মধ্যে সমান থাকে না, নিয়মিত কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তা গড়ে তোলা সম্ভব।
সহনশীলতা হলো প্রতিকূলতা, মানসিক চাপ বা কঠিন ঘটনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। খারাপ কোনো ঘটনা ঘটলে রাগ, দুঃখ, ভয় কিংবা কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। তবে মানসিকভাবে সহনশীল ব্যক্তি এসব অনুভূতির মধ্যেও ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিতে পারেন।
সহনশীল হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব সমস্যা একাই মোকাবিলা করতে হবে। বরং প্রয়োজনের সময় পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষের সহযোগিতা চাওয়াও মানসিকভাবে শক্ত থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মানসিক সহনশীলতা বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মতো বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপীড়ন, মানসিক আঘাত বা অন্য কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পর নিজেকে সামলে উঠতেও এটি ভূমিকা রাখে।
কারও আগে থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকলে, সহনশীলতা বাড়ানোর অভ্যাস তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।
পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গে সুস্থ ও ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করুন। প্রয়োজনের সময় কাছের মানুষের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ও সমস্যার কথা ভাগ করে নিন। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, সামাজিক কর্মকাণ্ড কিংবা আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হওয়া অন্যদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিদিন এমন কিছু করার চেষ্টা করুন, যা আপনাকে সাফল্য ও আত্মতৃপ্তির অনুভূতি দেয়। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জনও ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে।
আগে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন, তা ভেবে দেখুন। কোন বিষয়গুলো তখন আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল, সেগুলো চিহ্নিত করুন। চাইলে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারেন। এতে নিজের আচরণ ও প্রতিক্রিয়ার ধরন বুঝতে সুবিধা হবে।
অতীতের ঘটনা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। পরিবর্তনকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া এবং অযথা দুশ্চিন্তা কমানো সহজ হয়।
মানসিকভাবে ভালো থাকার জন্য নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনের দিকেও নজর দিতে হবে। পছন্দের কাজ ও শখের জন্য সময় রাখুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
মানসিক চাপ কমাতে গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস, ধ্যান, যোগব্যায়াম, প্রার্থনা কিংবা অন্য কোনো আরামদায়ক পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। নিজের জন্য একটি নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করাও উপকারী।
কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার প্রথম ধাপ হলো সমস্যাটিকে স্বীকার করা। কী করতে হবে তা নির্ধারণ করে বাস্তবসম্মত একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করুন।
বড় কোনো ধাক্কা, মানসিক আঘাত কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগতেই পারে। তাই নিজেকে সময় দিতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিবার, বন্ধু কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, প্রতিকূলতা জীবনকে কঠিন করে তুলতে পারে, কিন্তু সঠিকভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন